মহিলা দলের জেবা আমিনার বেপরোয়া কর্মকাণ্ড
বারিধারায় সন্ত্রাসী দিয়ে ফ্ল্যাট দখল
জেবা আমিনা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির মহিলা দলের সহসভাপতি ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বারিধারায় ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন একজন আবাসন ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারী মোকাররম হোসেইন খান আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি। এছাড়া তিনি জেবা আমিনার সাবেক স্বামী। তবে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়ে ফ্ল্যাট দখলের ঘটনায় গুলশান থানা মামলা নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই-এর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা বেরিয়ে এসেছে।
এদিকে অভিযুক্ত জেবা আমিনা বিএনপি নেত্রী হওয়ায় এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মোকাররম হোসেইন খান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তবে যুগান্তরের কাছে অভিযোগের সব বিষয় অস্বীকার করেন জেবা আমিনা। বরং তিনি দাবি করেন, বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় স্বামী মোকাররম হোসেইন খান কোম্পানির পাওনা শেয়ার ফেরত দিচ্ছেন না।
এদিকে জেবা আমিনার ব্যক্তিগত জীবনের নানা অসততা ও প্রতারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক দ্বিতীয় স্বামী মোকাররম হোসেইন খান। তিনি যুগান্তরের কাছে দাবি করেন-লন্ডনে, প্রথম স্বামী বহাল থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে ঢাকায় তাকে বিয়ে করেন। এছাড়া বড় অঙ্কের ঋণগ্রস্ত হয়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে তাকে বিয়ে করার পর দায়দেনা পরিশোধে মোটা অঙ্কের টাকা ধার নিলেও তা আজও ফেরত দেননি জেবা আমিনা। উলটো দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী দিয়ে জোরপূর্বক ফ্ল্যাট দখলসহ তাকে নানাভাবে হেনস্তার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমনকি এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি তার মেয়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারছেন না।
মামলা নেয়নি পুলিশ : গত বছর ২৭ জুন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ভুক্তভোগী মোকাররম হোসেইন খানের বাসায় দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত জেবা আমিনা স্বীকার করেন, তিনিই হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন। এ সময় তিনি পুলিশকে ভিডিও না করার অনুরোধও জানান। অথচ এ ঘটনায় পুলিশ পরে কোনো মামলা নিতে চায়নি। এমনকি জিডিও নেয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ৩ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে এসেছে। সূত্র জানায়, বুধবার পর্যন্ত জেবা আমিনা বারিধারায় দখলকৃত ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। ওই ফ্ল্যাটে থেকেই সাবেক স্বামী মোকাররম হোসেইন খানকে নানা ভাবে হেনস্তা করে যাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মোকাররম হোসেইন খানের লাইসেন্সকৃত পিস্তল ঘটনার দিন খোয়া যায়। গুলশান থানা পুলিশ শুধু এ বিষয়ে ১৯ জুলাই একটি জিডি এন্ট্রি করে।
বিএনপির কাছে অভিযোগ : বিএনপির মহিলা দলের সহসভাপতি জেবা আমিনা খানের বিরুদ্ধে গত বছর ১৫ জুলাই বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের (বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী) কাছে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেন ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাররম হোসেইন খান। এতে বলা হয়, গত ২৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারার ০২-ইউএন রোডে অবস্থিত ভবনের ২০১ ও ৪০১নং ফ্ল্যাটে হামলা চালায়। ভুক্তভোগীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে তার স্ত্রী-সন্তানরা বসবাস করে। ওই সময় ঈদের ছুটিতে তিনি সপরিবারে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন।
ফ্ল্যাটে হামলার সময় বিএনপির মহিলা দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেবা আমিনা খানের নেতৃত্বে ১০-১৫ সন্ত্রাসী জোরপূর্বক ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে। তারা বাসার গৃহকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে। প্রত্যেকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ২ জনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তবে অজ্ঞাত কারণে এ বিষয়ে গুলশান থানা পুলিশ কোনো মামলা নেয়নি।
আবেদনের এক স্থানে বলা হয়, জেবা আমিনা বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভীকে দিয়ে পুলিশে ফোন করাতেন। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে নানাভাবে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিন পৃষ্ঠার চিঠির শেষ প্যারায় বলা হয়, কোনো দাবি থাকলে সে বিষয়ে আইনি পথে না গিয়ে জেবা আমিনার ২০-৩০ জন মানুষ এনে বাড়ি দখল করা এবং প্রতিনিয়ত হুমকিতে তিনি ভীতসন্ত্রস্ত। এছাড়া দলের পরিচয় দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন এবং মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন।
চাঞ্চল্যে ভরা যত অভিযোগ : তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, লন্ডনের বিবাহ নিবন্ধনপত্র অনুসারে, নিয়াজ বিন করিম ও জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের দাম্পত্য জীবন বহাল ছিল। তবে প্রথম স্বামীর ডিভোর্সের আগেই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে জেবা আমিনা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই স্বামীর সংসারে তার কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে বারিধারায় দখলকৃত ফ্ল্যাটে বসবাস করলেও ঢাকার গুলশানে বাবার রেখে যাওয়া প্লটে ভবন নির্মাণ করে সে বাড়িও দখলে রেখেছেন জেবা আমিনা। এমনকি একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যু হলেও তার সন্তানদের (গুলশান-২, রোড ১০৮, প্লট ১৭, কনকর্ড আতিয়া) ভবনের মালিকানা এখনো তিনি বুঝিয়ে দেননি।
ব্রিটিশ সরকার পরিচালিত ওয়েবসাইটে দেখা যায়, জেবা আমিনা জন্মসূত্রে বাংলাদেশ ও বিট্রিশ নাগরিক। লন্ডনে ‘ইকোনোমিক্স’ নিয়ে লেখাপড়া শেষে চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে) নামে (কোম্পানি নং ০৩৭৭২২৩৮) ব্যবসা শুরু করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় ব্রিটিশ সরকার বন্ধ করে দেয়। ১৯৯৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৪ আগস্ট ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি জেবা করিম নামে স্কুল ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গার্ডিয়ান ২০০৫ সালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়া তিনি ইংল্যান্ডে আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত আরও একটি কোম্পানির পরিচালক হিসাবে ২৩ জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
ব্রিটিশ একটি গণমাধ্যমে ২০০৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত তথ্যানুসারে নার্সারি স্কুলে তিনটি গ্রুপের অবসান হওয়ায় কর্মী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তাদের পাওনা অর্থ নিয়ে লড়াই শুরু হয়। চিলড্রেনস প্যারাডাইস কোম্পানিটি ২০০৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তিন মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি ১১১ শিশুর সেবা প্রদান করত। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কোন ব্যাংকে তার কি পরিমাণ ঋণ ছিল অনুসন্ধানে তা জানা যায়নি।
এদিকে ঋণগ্রস্ত হয়ে এবং প্রথম স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় জেবা আমিনা বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর দেশের আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (সিডিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসাবে মোকাররম হোসেইন খানের সঙ্গে ২০০৫ সালে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এদিকে মুসলিম শরিয়া আইন পরিপন্থি হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়। একই সঙ্গে আরও অনেক নীতিহীন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন লন্ডনে দেউলিয়া ঘোষিত এই রাজনৈতিক নেত্রী। নীতিহীন বিভিন্ন স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় ঢাকার দ্বিতীয় সংসারও তার টেকেনি। দ্বিতীয় স্বামী মোকাররম হোসেইন খানের সঙ্গেও ২০১৭ সালে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ সংক্রান্ত নথিপত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
স্বামী বহাল থাকতে এভাবে জেবা আমিনার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রো বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যেহেতু বিবাহ রেজিস্ট্রির মাধ্যমে হয়েছে, তালাকও রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই হবে। যেহেতু আইনত তাদের বিচ্ছেদ হয়নি, সেহেতু এখানে আইন পরিপন্থি কাজ হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ হারাম (নিষিদ্ধ) এবং ব্যভিচারের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
যা বললেন মোকাররম হোসেইন খান : সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মোকাররম হোসেইন খান যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৫ সালে আমরা বিয়ে করি, প্রথম স্ত্রীর ক্যানসারে মৃত্যুর পর এটি ছিল আমারও দ্বিতীয় বিয়ে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে শুনেছি, কিন্তু কখনো কাগজ দেখিনি। তবে তার সঙ্গে ২০০৭ সালে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।’
কেন সংসার টিকল না জানতে চাইলে মোকাররম হোসেইন খান বলেন, ‘লন্ডন থেকে ফিরে যখন জেবা আমিনা আমাকে বিয়ে করে তখন সে অনেক ঋণগ্রস্ত। ঋণের দায়ে লন্ডনের স্কুলগুলো ব্যাংক নিয়ে যায়। সেগুলো ব্যাংক থেকে ফেরানোর কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫-৬ কোটি টাকা ধার নেয়। কিন্তু আর ফেরত দেয়নি। টাকা ফেরত চাওয়ার আমাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। এর মধ্যে সে বিএনপিতে যোগ দেয়। এছাড়া আমার কোম্পানির শেয়ারও ২% নিয়ে নেয়। কিন্তু আজও টাকা ফেরত দেয়নি। উলটো মামলা ও বাসা দখল করে আমাকে হয়রানি করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি পরিকল্পিতভাবে হিজড়াদের এনে আমার বারিধারার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করে। এসব কারণে আমার ছেলেমেয়েরা সব সময় ভয়ে থাকে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্লিন ইমেজের নেতা দেখতে চায়। তাই প্রতিকার চেয়ে জেবা আমিনার খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছি, আশা করি তিনি ব্যবস্থা নেবেন।’
মোকাররম হোসেইন খান যুগান্তরকে আরও জানান, ‘জেবা আমিনা তার আপন একমাত্র ভাইয়ের সন্তানদেরও ঢাকায় তাদের বাবার সম্পদ বুঝিয়ে দেয়নি। তাদের বঞ্চিত করে নিজের দখলে রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার একটি মেয়ে আছে, আমি তার বাবা। মেয়েটি এখন অসুস্থ। কিন্তু অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে সে আমাকে দেখা করতে দেয় না।’
পালটা অভিযোগ জেবা আমিনার : হামলা চালিয়ে ফ্ল্যাট দখলের বিষয়ে জেবা আমিনা বলেন, ‘বাড়িটি কোম্পানির সম্পদ, ব্যক্তির নয়। সেই কোম্পানির আমিও একজন পরিচালক। আদালত কোম্পানির সম্পদ কোম্পানির পরিচালককে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি আদালতের রায়ের কপি এবং সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ইসলামি শরিয়া অনুসারে কোনো নারীর তিন ইদ্দত পার হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন-ইসলাম তাই বলে। এছাড়া আমার দ্বিতীয় বিয়ে কোনো গোপন বিষয় নয়।’ তিনি জানান, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে তালাক হলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। এরপর সম্পদের অংশ পেতে মামলা করি। সেটিও নিষ্পন্ন হয়েছে।’
অভিযুক্ত জেবা আমিনা খান ওরফে জেবা আলগাজী ২০০৮ সালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ২০১৮ সালে ঝালকাঠি ও নলছিটি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তবে হেরে যান।

