Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

আর্জেন্টিনা জিতল ম্যাচ কেপ ভার্দে হৃদয়

পারভেজ আলম চৌধুরী

পারভেজ আলম চৌধুরী

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আর্জেন্টিনা জিতল ম্যাচ কেপ ভার্দে হৃদয়

শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের বাধা পেরিয়ে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শনিবার ভোরে মায়ামিতে -এএফপি

১১১ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ল কেপ ভার্দে।

১১১ মিনিটে জেগে উঠল আর্জেন্টিনা।

কিন্তু এই গল্প ১১১ মিনিটের নয়। ১২০ মিনিটের রোলার কোস্টার। এতটুকু একটা দেশ। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ৪,০৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশের জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের প্রতিটির থেকেও ছোট। পশ্চিম আফ্রিকার সেই খুদে দ্বীপদেশ বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসেই মহাঅঘটনের জন্ম দিতে চলেছিল। শেষে তাদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে চলে গেল শেষ ষোলোতে। যেখানে ৭ জুলাই তাদের সাক্ষাৎ হবে মিসরের সঙ্গে।

মেসি জানতেন, কঠিন লড়াই হবে। যারা স্পেন, উরুগুয়েকে জিততে দেয়নি, তারা যে আর্জেন্টিনাকেও বেগ দেবে, জানতেন মেসি। সেই বেগ এমনই সুতীব্র ছিল যে, দু-দুবার ম্যাচে পিছিয়ে পড়া কেপ ভার্দে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের টেনে নিয়ে গেল অতিরিক্ত সময়ে।

ম্যাচের আয়ু যখন ফুরিয়ে আসছে, ২-২ এ সমতা, অদৃষ্ট তখন মুচকি হেসে যেন কেপ ভার্দেকে বললেন, যথেষ্ট হয়েছে। এবার থামো। সেজন্যই হয়তো ১১১ মিনিটে দিনের আত্মঘাতী গোল, কেপ ভার্দের হার না-মানা হার এবং আর্জেন্টিনার অনেক বৃষ্টির পর একমুঠো রোদ্দুর।

একে তো মায়ামির প্রচণ্ড গরম। তার ওপর ভোজিনিয়াদের মরণপণ লড়াই। মায়ামি স্টেডিয়ামের ৬৪,৪৭৮ দর্শকের চোখ ছানাবড়া একটা পিচ্চি দেশের বুক চিতিয়ে লড়াই করা দেখে। সেই লড়াই আবার-লড়াই, লড়াই, লড়াই চাই। লড়াই করে বাঁচতে চাই। পাঁচ গোলের থ্রিলারের যখন পরিসমাপ্তি হয় মায়ামিতে, ঢাকায় তখন পুষ্পিত হচ্ছে প্রভাত।

সেই কোন দূরদেশ, পৃথিবীর কোন কোনায় পড়ে থাকা নিঃসঙ্গ ভূখণ্ড কেপ ভার্দের জন্য ভীষণ মায়া হলো। হেরেছে তো কী হয়েছে। বিদায়টা হয়েছে মনে রাখার মতো। ফুটবলবিশ্ব এক নামে চিনে ফেলেছে ১০টি দ্বীপের সুখী পরিবার কেপ ভার্দেকে। মেসির কথা ভুলে যান। রোনাল্ডো, হলান্ড, এমবাপ্পে, ইয়ামাল, কেইনদের আপাতত দূরে সরিয়ে রাখুন। চোখ বন্ধ করে ভোজিনিয়ার ছবিটা সামনে নিয়ে আসুন। অখ্যাত দেশের অচেনা এক অকুতোভয় গোলরক্ষক কী অসীম সাহসে তিন কাঠির নিচে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে উঠেছিলেন। ৪০ এর এই গোলপ্রহরী স্বপ্নের বিশ্বকাপে ১৮টি সেভ করেছেন। আজ থেকে অনেক বছর পর নাতি-নানিদের জন্য ভোজিনিয়া গল্পের রসদ নিয়ে গেলেন এই বিশ্বকাপ থেকে।

কেপ ভার্দে আসলে হেরেও জিতে গেল। কী ছিল তাদের খেলায়? ছিল সাহস, একতা এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা যে, আমরাও পারি। এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন কেপ ভার্দে। এমন স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিষেকের জন্য ভোজিনিয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বর্তমানের প্রতি। ভবিষ্যতের প্রতিও। ইংল্যান্ডের সাবেক রাইট-ব্যাক গ্যারি নেভিল যথার্থই বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এটিই কোনো আন্ডারডগের সেরা পারফরম্যান্স।’ মেসিও কুর্নিশ জানাতে কুণ্ঠিত হননি।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে অধিনায়ক মেসির গোলে আর্জেন্টিনা লিড নেওয়ার পাক্কা ৩০ মিনিট পর দেরয় দুয়ার্তের গোলে স্কোরলাইন ১-১ করে কেপ ভার্দে। ম্যাচের মহানাটক মঞ্চস্থ হয় ৯২ মিনিট থেকে ১১১ মিনিটে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লক্ষ্যভেদে আর্জেন্টিনা আবার ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ১০৩ মিনিটে সিডনি ক্যাবরালের গোলে ম্যাচে (২-২) সমতা আনে কেপ ভার্দে। আট মিনিট পর আত্মঘাতী গোলে থামে দ্বীপদেশটির রোমাঞ্চ। ৩-২ গোলের জয়ে শেষ বত্রিশ থেকে শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।

কেপ ভার্দে এবার বাড়ি ফিরে যাবে। রেখে যাবে সুখস্মৃতি। চোখের আড়াল হলেও, কাছে কিংবা দূরে থাকলেও, ফুটবলবিশ্ব মনে রাখবে-কেপ ভার্দে নামে একটা দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের বিস্ময় ছিল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম