স্থানীয় সরকার নির্বাচন
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৩১ আগস্ট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা এর আগে যাদের জন্ম তারা ভোটার হতে পারবেন। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৯ আগস্ট। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২৪ আগস্ট।
সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৭ আগস্ট। আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য জমা হওয়া আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ তারিখ ২৮ আগস্ট। আর ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। ইসির কর্মকর্তারা জানান, আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসাবে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ইসি।
ভোটকক্ষে ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে কেন্দ্র নীতিমালা প্রকাশ : প্রতিটি ভোটকক্ষে ৫০ শতাংশ ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা জারি করেছে ইসি। এই নীতিমালা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপন হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী-সাধারণ ও উপনির্বাচনে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ ও প্রতি ৫০০ জন নারী ভোটারের ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হবে। যেটি আগের নীতিমালায়, প্রতি ৪০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি ভোটকক্ষ নির্ধারিত হতো। নতুন নীতিমালায় ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে ভোটকক্ষে ভোট দেওয়ার একাধিক গোপন স্থান (মার্কিং প্লেস) নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোটার সংখ্যা বাড়ানোর ফলে কোনো ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোটার উপস্থিত হলে সেখানে ভোট দিতে একজন পুরুষ গড়ে ৪৮ সেকেন্ড ও নারী ৫৮ সেকেন্ড সময় পাবেন। তবে গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণে আগের নিয়ম বহাল রয়েছে। সাধারণ ও উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ একই নিয়মে স্থাপিত হবে। ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকার গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি ভোটকক্ষ নির্ধারণে আগের যে নিয়ম ছিল, তা বহাল রাখা হয়েছে। সংশোধিত ভোটকেন্দ্র নীতিমালা জারির বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ইসি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান কমিশন ওই সংখ্যা বাড়ানোয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়লে ভোটারদের ভোট দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। ভোট গণনা করতেও বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অবশ্য কমিশন বলছে, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ঠিক থাকবে। তবে ভোটকক্ষের সংখ্যা কমে আসবে। এতে আর্থিক সাশ্রয় হবে। কমিশন মনে করছে, ভোটার তালিকায় প্রবাসী, মৃত ভোটার ও বিভিন্নস্থানে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা থাকেন। তারা যেহেতু ভোট দিতে আসবেন না, তাই ভোটার উপস্থিতি সংসদ নির্বাচনের কাছাকাছি থাকবে। এরফলে তেমন সমস্যা হবে না।
স্থানীয় সরকারের চার প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে ইসি : স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের তথ্য চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি চিঠি পাঠায়।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের জন্য পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ অনুযায়ী পরিষদগুলোর প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদ কার্যকর থাকবে। একই আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরিষদগুলোর শপথগ্রহণ ও প্রথম সভার তারিখ প্রয়োজন। পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সীমানা ও ওয়ার্ড বিন্যাস দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের তথ্য চেয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬ অনুযায়ী করপোরেশনের প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ কার্যকর থাকবে। একই আইনের ধারা ৩৪ অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই সিটি করপোরেশনগুলোর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শপথগ্রহণ ও প্রথম সভার তারিখ প্রয়োজন।
চিঠিগুলোতে বলা হয়, আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের এসব তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।
