Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

জিআর মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুত ডাক্তারি সনদ চায় পুলিশ সদর দপ্তর

নেসারুল হক খোকন

নেসারুল হক খোকন

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জিআর মামলা নিষ্পত্তিতে দ্রুত ডাক্তারি সনদ চায় পুলিশ সদর দপ্তর

লাশের ময়নাতদন্ত শেষ। চলছে মামলার তদন্তও। কিন্তু শেষ হচ্ছে না। অন্যতম কারণ পোস্টমর্টেম বা মেডিকেল রিপোর্ট না পাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস, কিংবা বছর পেরিয়ে গেলেও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আর আসে না। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আলামতও নষ্ট হয়ে যায়। তবে এবার কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ সমস্যা সমাধানে খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়সহ মাঠপর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম মেট্রো) আশরাফুল ইসলাম পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মৃত্যু, অপমৃত্যু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পোস্টমর্টেম ও জখমি সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এবং আহত মেডিকেল রিপোর্ট দীর্ঘদিন মুলতুবি থাকায় মামলার তদন্ত বিঘ্নিত হচ্ছে। যে কারণে দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে অন্য কোনো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালে কী পরিমাণ ডাক্তারি সনদের অপেক্ষায় আছে, তার ছক আকারে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্তূপ হয়ে থাকা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও জখমি চিকিৎসা সনদের কারণে কার্যত থমকে আছে অসংখ্য মামলার তদন্ত কার্যক্রম। পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ এই নথি না পাওয়ায় মিলছে না মৃত্যুর প্রকৃত কারণ। এমনকি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন মুলতুবি থাকা সব পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও জখমি সনদের হিসাব চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১২ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহানগরে পুলিশ কমিশনার এবং জেলায় পুলিশ সুপারকে (এসপি) আটকে থাকা এসব ডাক্তারি সনদ সংগ্রহের কাজ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, জিআর মামলার ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ডাক্তারি সনদ পাওয়াটা খুবই জরুরি। কারণ, এসব মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের আগেই পুলিশকে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হয়। মেডিকেল রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দেওয়া যায় না। এমনকি সময়মতো এই সনদ না পাওয়া গেলে মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়, তাদের পাওয়া যায় না। সাক্ষী না পাওয়া গেলে বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একদিকে ভিকটিমের সঠিক বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে, অন্যদিকে রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .