Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

স্পেনের জয় মানে ‘ফুটবলের জয়’

পারভেজ আলম চৌধুরী

পারভেজ আলম চৌধুরী

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্পেনের জয় মানে ‘ফুটবলের জয়’

স্বপ্নের সোনালি ট্রফি স্পেন জিতল আবার ১৬ বছর পর। রদ্রিদের জয় যার মস্তিষ্কপ্রসূত, সেই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ট্রফিতে চুমু খেলেন। যেন স্পেন চুমু খেল বিশ্বকে। আগামী চার বছর ফুটবলবিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা ইউরোপের দেশটি। রোববার নিউজার্সিতে আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর

কবিতার মতো ফুটবল খেলে, নান্দনিক পাসের পসরা সাজিয়ে স্পেন বিশ্বজয় করল। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় ফাইনালে লাল ঢেউ তুলে ফেরান তোরেস ১০৬ মিনিটে যেন জাল কাঁপাননি, আর্জেন্টিনার বুকটাও কাঁপিয়ে দিলেন। এরপর আকাশি নীল-সাদারা বেদনায় বিলীন হয়ে নীরবতার নিঃসঙ্গ দীপ হয়ে গেলেন। বুয়েনস এইরেসে কোলাহল থেমে গেল। অজান্তেই অনেকের সহানুভূতির স্পর্শ পেল আর্জেন্টিনা। ফুটবলবোদ্ধারা রায় দিলেন, এটি আসলে ‘ফুটবলের জয়’। স্পেন আসলে জয়ী হয়েছে সহনশীলতার যুদ্ধে। ১৬ বছর লাগল তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে। বিশুদ্ধবাদীরা স্পেনের জয় এবং আর্জেন্টিনার পরাজয়কে বলছেন ‘সঠিক ফল’।

বিবিসি ওয়ানকে যেমন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার বলেছেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সঠিক দলই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল পজেশনে নিরংকুশ প্রাধান্য ছিল স্পেনের। ওদের খেলা দেখে মনে হয়েছে, ওরা ফুটবল খেলছে এবং সুযোগ তৈরি করছে।’ নিউক্যাসল লিজেন্ড শিয়েরার আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘এই ফল ফুটবলের জন্য আদর্শ। কেননা, স্পেন যেভাবে খেলেছে, তাতে জয় ওদেরই প্রাপ্য।’

শিয়েরারের কথা আপনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের দখলে বল ছিল ৬৫ শতাংশ। গোলে তাদের খেলোয়াড়রা ২০টি শট  নিয়েছেন। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১১টি শট। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন আট ম্যাচে গোল হজম করেছেন মাত্র একটি। তারই স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছেন। গোটা আসরে ওই একটাই গোল হজম করেছে স্পেন। বিশ্বকাপজয়ী আর কোনো দল এক আসরে এত কম গোল হজম করেনি।

স্পেনের ফুটবল যেন এক বহতা নদী। তারা অলিম্পিক, ইউরো ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। নারী বিশ্বকাপেরও শিরোপাজয়ী। রদ্রি, তোরেস, ইয়ামালরা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ৩৮ ম্যাচে অপরাজিত। ইতিহাসে ইউরোপের আর কোনো দলের এই কৃতিত্ব নেই। বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো খেলোয়াড় ১০০ কিংবা তার বেশি পাস সম্পন্ন করেছেন, এমন রেকর্ড হলো তিনটি। এর মধ্যে দুটি রোববারের ফাইনালে-দুজনই স্পেনের রদ্রি (১০১) ও পাউ কুবারসি (১২১)।

১৯-এর কুবারসি হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড়। এদিকে ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে লামিনে ইয়ামাল তৃতীয় কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেললেন। অপর দুজন হলেন পেলে (১৯৫৮) ও গিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২)।

স্পেনের সাফল্যের সমুদ্র ক্রমশ উত্তাল হচ্ছে। দুবছর আগে বার্লিনে ইউরো জয় করার পর লা রোহারা এখন বিশ্বজয়ী দল। ঠিক একইভাবে এর আগেও দুই বছরের ব্যবধানে স্পেন ইউরো ও বিশ্বকাপ জিতেছিল যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১০ সালে। তাদের অবিস্মরণীয় সাফল্য-যাত্রা যেন থামছেই না। গত পাঁচ বছরে স্পেন অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে সিনিয়র দল পর্যন্ত ১৬টি বিশ্ব ও ইউরো খেতাব জিতেছে।

স্পেনের ঈর্ষণীয় ফুটবল-সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সঠিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিভার পরিচর্যা ও বিকাশের পথ সহজতর করা। ফ্রান্সের ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরি তো বলেই দিয়েছেন, ‘আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের সামর্থ্য ও সক্ষমতা রয়েছে স্পেনের।’


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম