ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ : আহত শতাধিক
হঠাৎ উত্তপ্ত চার ক্যাম্পাস
যুগান্তর প্রতিবেদন, রংপুর ব্যুরো ও জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় মঙ্গলবার পুলিশের সামনেই ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আধিপত্য বিস্তার, আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজধানীর তিনটিসহ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ সংঘর্ষে জড়িয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার রাতে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একশর বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা কলেজে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। এ ছাড়া আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারতদের ওপরও ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। এদিকে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার রাতে ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসগুলোতে সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিসোঁটা, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জুলাই আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত সাংবাদিকরা হলেন-বাংলা ট্রিবিউনের সোহায়েল আহমেদ, আজকালের খবরের কায়েস মাহমুদ, আমার সংবাদের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা স্ট্রিমের রজব আল ফাহিম, প্রাইম বাংলাদেশের মোহন খন্দকার। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনো অনেকেই আসছেন চিকিৎসা নিতে।
জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে প্রধান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চ ও জকসু প্রতিনিধিরা জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর এবং অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদল। পরে তারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামের সামনেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় জকসু নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রদলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির পর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন। পরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসারতদের ওপর হামলা করেন এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর চালান। হামলার সময় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় ছাত্রদল। এ সময় ঘটনাস্থলে দেখা যায় জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনকে। এরপর পার্শ্ববর্তী ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিবিরকর্মীদের ওপরও দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। বিকাল ৪টায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ২০ কোটি টাকার অস্থায়ী হল নির্মাণের টেন্ডার ছাত্রদলের নেতাকে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। আমরা ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর এবং আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানাতে চেয়েছি। প্রোগ্রামে প্রবেশ করতে না পেরে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। তখন প্রক্টর এসে বলেন, এখানে অবস্থান থেকে না উঠলে জোর করে তোলা হবে। পরিবহণ প্রশাসক তারেক বিন আতিক স্যার এসে বলেন, তোমাদের ছাত্রদলকে দিয়ে পিটিয়ে তুলে দেওয়া হবে। আমাদের জকসু প্রতিনিধিসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি এসে ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রশাসন তাদের বারবার নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাদের দিকে তেড়ে আসে তারা। তাই ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে শিবিরের সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছি।
বিকাল সাড়ে ৪টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আমি অনেক অনুরোধ করে ইউজিসি চেয়ারম্যানকে আমাদের প্রোগ্রামে আসতে রাজি করিয়েছি। তার কাছে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রত্যাশা রেখেছিলাম। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ন্যাশনাল মেডিকেলে দফায় দফায় হামলা : জবি, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল এবং স্থানীয় যুবদল মিলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। বিকাল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কয়েক দফা হামলা হয়। এসময় হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগী ও আহত শিবিরকর্মীদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। বিকাল ৫টায় আবারও হাসপাতালে হামলা চালান। এরপর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে আবারও হামলা চালানো হয়। এসময় হাসপাতালে আগত অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এদিকে রাজধানীর কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। কবি নজরুল কলেজে ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ : ঢাকা কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে জড়িয়েছে-এমন খবর আসার পরপরই দুপক্ষ মারামারি শুরু করে। এতে ২০ জনের মতো আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিলাদ হোসেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকে ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে আমাদের একটি কর্মিসভা ছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার সময় আমাদের ওপর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগত নিয়ে হামলা করে। পরে আমরা অধ্যক্ষের কাছে গেলে তারা ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করে। আমরা তার প্রতিবাদে মিছিল করি। আর এখন ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কাউকে ঢাকা কলেজ দখল করতে দেব না।
মিলাদ হোসেনের ভাষ্য, ঢাকা কলেজের সামনে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তবে ছাত্রদলের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের আজকে পূর্বঘোষিত শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল ছিল। সেখানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করে। এতে আমাদের অনেকে আহত হয়েছে। বিকালে দেখা যায়, কলেজে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল। আর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঢাকা কলেজ, নিউ মার্কেট ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারির ঘটনায় কলেজের আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে থাকা নিউমার্কেট থানার এসআই খায়রুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। শুরুর দিকে কয়েকজন আহত হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এদিকে নিউমার্কেট এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হলেও কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা : হলের সিট দখল কেন্দ্র করে বিকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকসহ (৫২) অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। মাদ্রাসার শিক্ষক আলী হাসান জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ সংঘর্ষ থামানোর জন্য এগিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় ছুড়ে মারা ইটের টুকরা লাগলে তিনি মাথায় আঘাত পান। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। অনেককে মাথায় হেলমেট পরে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৩টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি অল্প সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণে এলেও বিকাল ৫টার দিকে পুনরায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়।
এদিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষে শিবির নেতাকর্মীদের হামলায় তিন ছাত্রদল নেতা আহত হয়েছেন। তারা হলেন আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সানাউল্লাহ (৩০), লালবাগ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নিছার উদ্দিন রাব্বি (২৭) ও ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০)। এদিকে ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রশিবির সরে গেছে বলে জানা গেছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় : রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে শিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে শিবিরের সোমবার রাতে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শিবিরের পক্ষ নিয়ে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত সন্ত্রাসী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত হন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় বহিরাগতদের অবাধ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ জারি করে। মঙ্গলবার বিকালে শিবির ও ছাত্রদল পালটাপালটি কর্মসূচির ডাক দেয়। শিবির কারমাইকেল কলেজ গেটে বিকেল ৪টায় জমায়েত ডাকে। সেখান থেকে তাদের মিছিলটি বেরোবি ক্যাম্পাসে জুলাই চত্বর যাওয়ার কথা ছিল। একই সময় ছাত্রদল দুপুরে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাজাকারের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচির ডাক দেয়।
বেরোবি প্রধান ফটকে এই কর্মসূচিতে এসে সাংবাদিকদের যুবদলের মহানগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন বলেন, আমরা দেখেছি সোমবার রাতে শিবিরের সন্ত্রাসীদের সাথে জামায়াত-শিবিরের বহিরাগত সন্ত্রাসীরাও ছিল। আজকে তারা পুনরায় বেরোবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। তাই এখানে এসেছি যদি কোনো হামলা করা হয় তাহলে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ড থেকে শিবিরের নাম মুছে ফেলা হবে। আমরা রাজাকারদের ছাড় দেব না।
ছাত্রদলের বেরোবির সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়ামিন অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেই ব্যানার সরানোর জন্য দাবি জানালে শিবিরের পক্ষ থেকে হামলা করা হয়। এতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন। তারই প্রতিবাদে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে সংঘর্ষের পর শিবিরের সশস্ত্র হামলারমুখে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বেরোবি ক্যাম্পাস। পরে মঙ্গলবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শক্তি বৃদ্ধি ও সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাস দুপুরের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিলে শিবিরের নেতাকর্মীরা কারমাইকেল কলেজে চলে আসেন। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে সংগঠিত হতে থাকেন।
