মোদির বার্তা নিয়ে ফিরবেন দীনেশ ত্রিবেদী
সম্পর্কের সুতো আর ছিঁড়তে চায় না দিল্লি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে ঢাকার অসন্তোষ আমলে নিয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে নতুন অবস্থানে যাচ্ছে ভারত। সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে শেখ হাসিনাকে এখন থেকে নিছক ‘অতিথি’ হিসাবেই দেখবে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিল্লির এমন সব ইতিবাচক বার্তা নিয়েই শিগগিরই ফিরবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এর আগে ঢাকার বার্তা নিয়ে ভারতে গেছেন তিনি।
১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সেদিনই দিল্লি যান দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদেশের সংবেদনশীল জায়গাগুলো মাথায় রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বার্তা নিয়ে ফিরবেন তিনি। কিন্তু কী সেই বার্তা। সূত্রগুলো বলছে, নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। শেখ হাসিনা ইস্যুতে নতুন অবস্থানে যাবে ভারত সরকার। এখন থেকে তিনি দেশটিতে শুধু ‘অতিথি’র মতোই থাকবেন। শেখ হাসিনার কারণে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে আর কোনো ভাঙন চায় না ভারত। ফলে ঢাকায় ফিরে দীনেশ ত্রিবেদীর অন্যতম বার্তা হতে পারে-তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়ানো।
সূত্রটি বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশের দাবি ভারত আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করছে; এই ইস্যুতে এখনই কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই; বরং সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্র এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে পারে দিল্লি। যেমন-বাণিজ্য, ভিসা, জ্বালানি, সীমান্ত ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিতে পারে দেশটি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা আসতে পারে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে উন্নয়নশীল শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে। দিল্লির সূত্র বলছে, ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলে এটিকে মোদি-তারেক প্রথম সরাসরি বৈঠকের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসাবেও দেখা হচ্ছে।
দিল্লির আরেকটি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দিল্লি যাবেন। ঢাকায় ‘র’-এর প্রধানসহ আরও কয়েকজনের সফরে সেই বার্তাই এসেছে।
এদিকে দুদেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ১০ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়, তবে তার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ দরকার। পাশাপাশি তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি, তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইনসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নানা বিষয়গুলোর কথা তুলে ধরেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে শেখ হাসিনার ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ঢাকার অসন্তোষের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এই বিষয়গুলোই দিল্লি আমলে নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রকৃতপক্ষে সচেষ্ট বলে বার্তা আসতে পারে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দীনেশ ত্রিবেদী আরও কিছুদিন দিল্লিতে অবস্থান করবেন। তিনি সেখানে ধারাবাহিকভাবে বেশকিছু সরকারি বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে তার ঢাকায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

