Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট হলেই ঢাকার সিদ্ধান্ত

হক ফারুক আহমেদ

হক ফারুক আহমেদ

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট হলেই ঢাকার সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে ‘অনুকূল পরিবেশ তৈরি’র শর্ত দিয়েছে ঢাকা। তবে এ বিষয়ে দিল্লির অবস্থান এখনো স্পষ্ট হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ছাড়াও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরত পাঠানোর ইস্যুটিও ঢাকার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ দুটি ইস্যুতে দিল্লি কী বার্তা দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে ঢাকা। জানা যায়, দিল্লি কী পদক্ষেপ নেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর। এদিকে ঢাকার শর্তের ব্যাপারে দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু না জানালেও দেশটির কূটনীতিকরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে এখনো আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের কৌশলগত এই অবস্থানে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর কবে নাগাদ হয়, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিষয়ে ঢাকার দিক থেকে খুব স্পষ্টভাবে সফরের অন্তরায়ের জায়গাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। দিল্লিকে আগে ঢাকার চাওয়াগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ স্পষ্ট করতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার দিক থেকে যেসব প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে, সেসব বিষয়ে যদি কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা কম বলে মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, আস্থার যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা কমিয়ে আনতে হলে যে বিষয়গুলো নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেগুলোর সমাধান বা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। সেটা সর্বোচ্চ পর্যায় বা অন্য পর্যায়েও হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে আস্থার সংকট প্রবল। এর জন্য দায়ী মূলত দিল্লি। ঢাকার দিক থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে দিল্লি আগে থেকেই অবগত। বাংলাদেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য স্পর্শকাতর এসব বিষয় দিল্লি বারবার উসকে দিয়েছে। সর্বশেষ ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স বিষয়ে ঢাকা আগে থেকেই সতর্ক করলেও দিল্লি বিষয়টিকে কৌশলে পাশ কাটিয়ে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে সরকারের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষাপটে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারতীয় বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনো একক সিদ্ধান্ত হবে না। একই সঙ্গে ঢাকার এ কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

তবে ঢাকার কূটনৈতিক মহল বলছে, হাসিনার ইস্যুটি আদালতে নেওয়া দিল্লির আরেকটি কৌশল। এতদিন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতবিষয়ক কোনো আলাপ ছিল না। এখন আদালতের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি ন্যস্ত হলে দেশটির সরকার শেখ হাসিনাবিষয়ক দায় থেকে অনেকটা মুক্ত থাকবে।

কূটনৈতিক মহল আরও বলছে, তারেক রহমানের ভারত সফর যখনই হোক না কেন, সেটি দ্বিপাক্ষিক সফর হতে হবে। কারণ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গঙ্গা পানিচুক্তির নবায়ন, পুশইন, সীমান্তে হত্যা, তিস্তার নায্য পানির হিস্যার মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো আছে। ব্রিকস বা এ ধরনের কোনো সম্মেলনের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীর সফর হলে দিল্লিতে এসব বিষয়ে কার্যকর আলোচনার সুযোগ কম। গুরুত্বপূর্ণ এসব ইস্যুতে গঠনমূলক সিদ্ধান্তে আসতে দ্বিপক্ষীয় সফরই উপযুক্ত বলে মনে করে ঢাকা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিষয়ে শর্ত দেওয়ার পর থেকে ঢাকার অবস্থানকে কঠোর আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম।

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। রোববার রাতে ঢাকার বারিধারায় আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তার স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা যায়।

হাইকমিশনার আরও বলেন, আমি খুবই আশাবাদী। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এ দুটি দেশ শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করে না, তারা একটি অভিন্ন স্বপ্নও ধারণ করে।

ঢাকার এমন অবস্থানে দিল্লির কূটনৈতিক মহলেও চলছে নানা বিশ্লেষণ। সোমবার ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সাবেক কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে এলে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। অনেক অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো সমাধান করা দরকার। তিস্তা নদীর বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বেশির ভাগ বিষয়েই আমরা একমত হয়েছিলাম, কিন্তু পরে কিছু সূক্ষ্ম বিষয় বাদ পড়ে যায়।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগের বর্তমান সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। তারেক রহমান যদি না আসেন, তাহলে এই সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগের চ্যানেল খোলা থাকবে না। এই সুযোগ তারা যেমন হারাতে চায় না, আমরাও চাই না এটি হাতছাড়া হোক।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম