Logo
Logo
×
   

প্রথম পাতা

ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ

স্থানীয় সরকারে মঈন খান, তথ্যে আন্দালিভ পার্থ

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় সরকারে মঈন খান, তথ্যে আন্দালিভ পার্থ

বঙ্গভবনে শুক্রবার নতুন চার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আন্দালিভ রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী শপথ নিচ্ছেন -পিআইডি

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তাদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে পাঁচজন নতুন। আর পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান। সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে পাঁচজন যুক্ত হলেন। গতকাল রাতেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এদিকে খুশিতে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তাদের নেতাকর্মীরা। 

নতুন শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা হলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি ড. আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিভ রহমান পার্থ। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট কোটায়) ও গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। রাতে দপ্তর বণ্টন করে দেওয়া প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর শূন্যপদে আবদুল মঈন খান দায়িত্ব পেয়েছেন। আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আর তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু উল্লেখ নেই।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বান্দরবানের সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান দীপেন দেওয়ান। কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

আর মো. শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আগে থেকে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদ ইসলামও আগের পদে থাকবেন। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন ড. খলিলুর রহমান।

মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মধ্যে ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিচিতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অত্যন্ত পছন্দের লোক হিসাবেও পরিচিত তিনি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার বাসায় প্রায়ই বিদেশি কূটনীতিকরা বৈঠকে বসতেন। একজন সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসাবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ড. খান একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও ফেলোশিপও পেয়েছেন ড. খান।

অপর মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুর বড় ছেলে। লন্ডনের লিঙ্কনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দেশে ফিরে আইন পেশা ও রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের একজন শক্তিশালী বক্তা হিসাবে পরিচিতি পান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে তার বাগ্মিতা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কারণে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। 

সাচিং প্রু জেরীর বাবা বোমাং সার্কেলের চিফ অংশৈ প্রু চৌধুরীও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে খাদ্য, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ছেলে এবার মন্ত্রী হলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সংসদ-সদস্য হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। 

প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবিরের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে। শৈশবেই তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবাসী হন। হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে পৃথক বিষয়ে তিনটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পরিচিত তিনি। 

দীর্ঘদিন পর প্রতিমন্ত্রী পেয়েছেন গাইবান্ধাবাসী। এ জেলার বিএনপির সংসদ-সদস্য শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততার কারণে তার পরিচিতি রয়েছে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .