আর্জেন্টিনা অদম্য স্কালোনির স্পর্শে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিওনেল মেসির মাপা পাস থেকে বদলি লাওতারো মার্তিনেজের মাথা ছুঁয়ে বল জালে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে ইংল্যান্ড-বধ। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা। গ্যালারি কাঁপছে উন্মাদনায়। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ছুটছেন। একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। বেঞ্চের খেলোয়াড়দের উল্লাস যেন বাঁধ মানছে না। অথচ, কোচ লিওনেল স্কালোনি দাঁড়িয়ে নির্বাক। ঠোঁটে হাত। চোখে অদ্ভুত প্রসন্নতা। নীরবে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এমন প্রত্যাবর্তনের কি কোনো ভাষা হয়?
আট বছর আগেও দৃশ্যটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। দিশাহীন, বিভক্ত এবং আত্মবিশ্বাসহীন। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেই ব্যর্থতার পর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিতে চাননি বড় কোনো কোচ। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অগোছালো অবস্থা ও তীব্র চাপের মুখে দিয়েগো সিমেওনে কিংবা মরিসিও পচেত্তিনোর মতো কোচ দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। অনেকেই তখন জাতীয় দলের কোচের পদটিকে ‘বিষাক্ত মরিচ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পেয়েছিলেন স্কালোনি। অনেকের চোখেই তিনি ছিলেন সাময়িক সমাধান। অভিজ্ঞতার অভাব, বড় দল সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। দিয়েগো ম্যারাডোনাসহ আর্জেন্টিনার অনেক কিংবদন্তি তার নিয়োগের সমালোচনা করেছিলেন। সেই স্কালোনিই বদলে দেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের মানসিকতা। দায়িত্ব নিয়েই প্রথমে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে দলে ফেরান। এরপর গড়ে তোলেন একটি দল। যারা প্রতিকূলতা যতই হোক, বিশ্বাস হারায় না। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। এই দলের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হার না-মানা মানসিকতা।
শিষ্যদের অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি স্কালোনিও। তিনি বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ। এই জয় আমাদের দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। আমি আগেও বলেছি, এই ছেলেরা আমাকে বারবার বিস্মিত করে।’ সংবাদ সম্মেলনে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার। কয়েক মিনিট আগে মাঠে দেখা দৃশ্য যেন চোখের সামনে ভাসছিল। তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছে। এই দল দেখিয়েছে টিম স্পিরিট কী? ভ্রাতৃত্ব কী, কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা কী। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তারা লড়েছে। এরপরও যদি কেউ জানতে চায় এই দলকে আর কী প্রমাণ করতে হবে, আমার কোনো উত্তর নেই।’ স্কালোনির মতে, এই আর্জেন্টিনা সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ গোল করার পরও আমরা ছয়-সাতটি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছি। বুঝতে পেরেছিলাম, ওরা পিছিয়ে যাচ্ছে। তখনই আমরা ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এই দল ভয় পায় না। চাপ তাদের আরও শক্তিশালী করে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ফাইনাল জেতার চেষ্টা করব, সবকিছু উজাড় করে দেব। আজ (সেমিফাইনালে) এই দল যা দেখিয়েছে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার খেলোয়াড়রা সত্যিই অনন্য। এটা কোনো অহংকার নয়, বাস্তবতা।’

