সাক্ষাৎকার: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী
উম্মাহর জাগরণে আলেমদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার
আল্লামা ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আল্লামা ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী সমকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক আলেম। তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সম্মানিত সদস্য। পাশাপাশি বিখ্যাত উর্দু সাময়িকী ‘আল ফুরকান’-এর প্রধান সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুদীর্ঘ তিন দশক পর সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সফরে আসেন। সফরে মুসলিম উম্মাহর সংকট, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, তরুণদের করণীয় ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের মুখোমুখি হন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-তানজিল আমির
-বাংলাদেশে আগমনের জন্য আপনাকে শুভেচ্ছা। অনেকদিন পর এলেন, শেষ কবে এসেছিলেন। এবারের সফর কেমন লাগছে?
আল্লামা নোমানী: অনেকদিন পর এবার আসা হলো। সর্বশেষ সম্ভবত ১৯৮৬ বা ১৯৮৭ সালে এসেছিলাম। এরপর আর আসা হয়নি। অনেক ভালো লাগছে। আমি যতটা ভালো আশা করেছিলাম, পরিবেশ-পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক ভালো পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।
- বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, এ বিষয়ে আপনার বিশ্লেষণ এবং এর সমাধান কী?
আল্লামা নোমানী: দেখুন, এক হাজার বছর পর্যন্ত মুসলমানরা বিশ্বে প্রভাবশালী ছিল। এসময় তারা শাসক ছিল জনপ্রিয়ও ছিল। উসমানী খেলাফতের পতনের পর পশ্চিমা সভ্যতা আধিপত্য লাভ করে। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। বাস্তবতা হলো প্রতিটি জাতিকেই বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু পরিস্থিতি কখনোই এক অবস্থায় থেমে থাকে না। একজন মানুষের যেমন সময় বদলায় জাতিরও পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। কয়েকশ বছর ধরে মুসলমানরা পতনের শিকার।
এ ছাড়া বিভিন্ন মতভিন্নতাও রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও সংস্কারমূলক অনেক কাজ হয়েছে। আত্মশুদ্ধি ও দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণও শুরু হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, উম্মত ইসলামের দিকেই ফিরে আসছে। ভবিষ্যতের বিষয়ে আমি খুব ভালোর প্রতাশ্যা রাখি। আরও কয়েকটি বছর আমাদের সামান্য পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এরপর সেসময় চলে আসবে যে পুরো বিশ্বে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ।
- বিশ্ব নেতৃত্বে মুসলমানরা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। আপনার দৃষ্টিতে এ পতনের কারণগুলো কী এবং এ থেকে উত্তরণের সঠি পথ ও পদ্ধতি কী হতে পারে?
আল্লামা নোমানী: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর, পরস্পরে ঝগড়া বিবাদ করো না, তা করলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে, তোমাদের শক্তি-ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে। (সূরা : আনফাল, ৪৬)। মুসলমানদের পতনের কারণ কী হতে পারে তা কুরআনেই স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। কুরআন বলছে, যদি নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি কর তাহলে তোমরা মনোবল হারাবে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পারস্পরিক ইখতিলাফ। আমরা নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে লড়াই করছি।
এর পরিবর্তে আমাদের শক্তি-সামর্থ্যকে কাজে লাগানো উচিত জুলুমের বিরুদ্ধে। বিশ্বে কোথাও যেন জুলুম না হয়, মুসলিম-অমুসলিম সবাই যেন ন্যায়বিচার পায়। এটিই ইসলামের বার্তা। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, বর্তমান তরুণ-যুব সমাজ এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ পরিবর্তন আনবে ইনশাআল্লাহ।
- নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ কীভাবে কমিয়ে আনা যায়?
আল্লামা নোমানী: নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ অনেকটা আত্মহত্যার মতো। আমরা যখন নিজেদের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব, তখনই আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করতে পারব। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া নয়, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে। শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, সবার জন্য। প্রত্যেক জাতি শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করছে। শুধু নিজেদের ব্যাপারে চিন্তা করা-এটা মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য নয়। মুসলমান হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, আমরা সমগ্র মানবতার কথা চিন্তা করব।
- উপমহাদেশে দেওবন্দি ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে আলেমদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে, এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
আল্লামা নোমানী: যখনই যুগের পরিবর্তন ঘটে, তখন কিছু নতুন চাহিদা বা দাবি সামনে এসে দাঁড়ায়। নতুন কিছু আসলে সবার মত এক থাকে না। উভয়পক্ষে মুখলিস মানুষ থাকেন। একদল পূর্ণ ইখলাসের সঙ্গে মনে করছেন, আমাদের প্রচলিত পুরোনো শিক্ষা পদ্ধতিকে শক্তভাবে ধরে রাখা উচিত এবং মাদ্রাসায় জাগতিক শিক্ষার প্রবেশ ঘটানো উচিত নয়। তাদের আশঙ্কা, জাগতিক শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করলে তা মাদ্রাসার মূল দ্বীনি শিক্ষার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে।
কিন্তু মৌলিক প্রশ্ন হলো, একজন আলেম জাগতিক শিক্ষা অর্জন করলে তার উদ্দেশ্য কী হবে? অনেকে বলেন, এর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের সমস্যা সমাধান হবে। আমি এ ধারণার কঠিন বিরোধিতা করি। আমরা কি রুজি-রুটির জন্য ইলম অর্জন করছি? ইলম কি ক্রয়-বিক্রয়ের বস্তু? অন্যদিকে যেসব আলেম চান মাদ্রাসার আলেমরা জাগতিক শিক্ষাও অর্জন করুন, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো-আলেমরা যেন যুগকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং মানুষের সামনে ইসলামকে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন।
আমরা যদি নতুন প্রজন্ম ও আধুনিক শ্রেণির মনস্তত্ব, তাদের সমস্যা, সন্দেহ এবং তাদের মনের নানা প্রশ্ন না জানি, তাহলে কীভাবে এসবের উত্তর দেব? বুখারি, মুসলিম, হাদিস, তাফসির ও ফিকহে অভিজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়তে হবে। যেসব আলেম বলেন, মাদ্রাসায় জাগতিক শিক্ষা দেওয়া উচিত, তাদের উদ্দেশ্য এটিই। আমাদেরও পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র ও চিন্তাধারা বুঝতে হবে।
এ উদ্দেশ্যে জাগতিক শিক্ষার কথা বলা হলে মতপার্থক্যটা শুধু শব্দের মধ্যে; মৌলিক কোনো মতবিরোধ নেই। কোনো দেশে ইসলামকে ভালোভাবে উপস্থাপনের জন্য জাগতিক জ্ঞান অর্জন করা উপকারী হলে, তা অর্জন করা উচিত।

আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানীর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন যুগান্তরের সহ সম্পাদক তানজিল আমির।
-এ দেশের তরুণ আলেমদের নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
আল্লামা নোমানী: বাংলাদেশের তরুণ আলেমদের মধ্যে আমি যে সম্ভাবনা দেখছি, যদি তাদের সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা ও পরিচালনা করা হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ শুধু উপমহাদেশেই নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী। আমি আগেও বলেছি-যতটা আশা নিয়ে এ দেশে এসেছিলাম, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি আশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
- স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার আওতায় আনতে আলেমদের কী ভূমিকা পালন করা উচিত?
আল্লামা নোমানী: মসজিদে কুরআন শিক্ষার আসর করে সেখানে তরুণ-যুবকদের দাওয়াত করতে হবে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য পুরস্কারভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। ঘোষণা করুন : অমুক বিষয়ে যারা প্রবন্ধ লিখবে, তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের দশ হাজার, বিশ হাজার অথবা নির্ধারিত অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হবে। তাদের দুই-তিনটি বিষয় নির্ধারণ করে দিন।
তরুণরা পুরস্কারের আকর্ষণেও এতে অংশ নেবে। প্রবন্ধ লেখার প্রস্তুতির জন্য তাদের কিছু কিতাব হাদিয়া দিন। তারা যখন সেই কিতাবগুলো পড়বে, তখন ইনশাআল্লাহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হবে। তারা এখানে পুরস্কারও পাবে এবং তাদের চিন্তা ও বাস্তব জীবনে পরিবর্তনও আসবে।
- আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে দ্বীনের দাওয়াত ও সমাজ সংস্কারে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?
আল্লামা নোমানী: আধুনিক ও মাদ্রাসা শিক্ষাধারার দুই শ্রেণিকে কাছাকাছি আনতে হবে। একদিকে মাদ্রাসার শিক্ষিত সমাজ, অন্যদিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত সমাজ। এ দুই শ্রেণির পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে দেশ শক্তিশালী হবে, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কমবে, আইনশৃঙ্খলা উন্নত হবে, আলেমদের যোগ্যতা যেমন সঠিকভাবে কাজে লাগবে, তেমনি তরুণদের মেধাও যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
- ভারতের মুসলমানদের সামগ্রিক পরিস্থিতি আসলে কী?
আল্লামা নোমানী: সেখানে শুধু মুসলমানদের ওপর নয়, বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম ও বাড়াবাড়ি হচ্ছে। একটি বিশেষ চিন্তাধারার গোষ্ঠী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কারণে শুধু মুসলমানরা নয়, দেশের অধিকাংশ মানুষই চিন্তিত ও অসন্তুষ্ট। সবাই মিলেমিশে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। ইনশাআল্লাহ, আজ না হলে কাল পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে।
- ভিসা জটিলতার কারণে দেওবন্দসহ ভারতের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনার জন্য যাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আপনার কী বার্তা বা দাবি থাকবে?
আল্লামা নোমানী: আমি চাই দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকুক। এটি উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর। প্রচুর সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ বাংলাদেশে রয়েছে ভারতেও রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক ঝগড়ার কারণে পৃথিবীর বড় শক্তিগুলো লাভবান হয়। আমাদের দেশগুলোর কোনো লাভ হয় না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি বুঝবেন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করবেন। ভারতের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাও হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হোক।
আমাদের দেশের সাধারণ হিন্দু, শিখ ও খ্রিষ্টান-সবাই ভালো সম্পর্ক চায়। যুদ্ধ, হিংসা ও বিরোধিতা কেউ পছন্দ করে না। একটি বিশেষ দল হিংসা ছড়ানোর পলিসি গ্রহণ করেছে। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছেও আবেদন করছি, তারা যেন কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করে এবং পজিটিভ পয়েন্টগুলো খুঁজে বের করে। এভাবে কাজ করলে তারা সফল হবে, ইনশাআল্লাহ। আমি এর জন্য দোয়া করি।
- আপনি ভারতীয় মুসলিমদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের একজন সদস্য। এ বোর্ডের কাজ কী এবং বর্তমানে এটি কীভাবে কাজ করছে?
আল্লামা নোমানী: এ বোর্ড দুটি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম উদ্দেশ্য হলো, দেশের পার্লামেন্ট অথবা কোনো রাজ্যসভায় মুসলমানদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় (বিবাহ, তালাক, ওয়াক্ফ, মিরাস ও ওসিয়ত সম্পর্কিত আইন) সম্পর্কিত এমন কোনো আইন পাস হলে, যা শরিয়তের বিরোধী, তখন সেই আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করা। দ্বিতীয়, যে কোনো আদালতে-তা নিম্ন পারিবারিক আদালত বা সুপ্রিমকোর্ট হোক-মুসলিম পার্সোনাল ল সম্পর্কিত কোনো মামলা চললে, সেই মামলার ওপর নজর রাখা। চেষ্টা করা হয়, আদালতের সিদ্ধান্ত যেন শরিয়তের আইনের বিরোধী না হয়; বরং শরিয়তের বিধান অনুযায়ী হয়।
বোর্ডের আরেকটি বড় কাজ হলো সমাজ সংশোধন প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের মুসলমানদের শরিয়তের ওপর আমল করতে উদ্বুদ্ধ করা। এ বোর্ডে বেরেলভী, শিয়া, বোহরা, ইসমাইলি ও আহলে হাদিসসহ সব গোষ্ঠী ও মাযহাবের মানুষ রয়েছেন।
- বর্তমান যুগে ইসলামি দাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?
আল্লামা নোমানী: নিজের মতাদর্শের দিকে নয়, ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। মতাদর্শের ওপর উম্মত কখনো ঐক্যবদ্ধ হবে না; ইসলামের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে। এখন আমরা দেখি, অনেকে নিজেদের জামায়াত বা সংগঠনের দিকে মানুষকে আহ্বান করে। অথচ আহ্বান হওয়া উচিত ইসলামের দিকে। যদি ইসলামের বিষয়ে এক হওয়ার দাওয়াত দেয় তাহলে এ বিষয়ে কারও মতানৈক্য থাকবে না। আসলে উম্মাহর জাগরণে আলেমদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দরকার।

