Logo
Logo
×
   

যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন

কী আছে মানসিক স্বাস্থ্য আইনে

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কী আছে মানসিক স্বাস্থ্য আইনে

মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে বন্দি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিদ্যমান মানসিক স্বাস্থ্য আইনেও এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ সংক্রান্ত আইনের কয়েকটি ধারায় মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, মর্যাদা, সুরক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, পুনর্বাসন এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন অনুযায়ী মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য দীর্ঘসময় ধরে বন্দি রাখা যাবে না; ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি রাখতে হলে, তাকে অবশ্যই একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দিতে হবে। এ ছাড়া একটানা ২৮ দিনের বেশি কাউকে আটকে রাখতে হলে চিকিৎসা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এ বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্য আইন ২০১৮-এর ১৩ ও ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘অপ্রতিবাদী রোগী ভর্তি ও মেয়াদের যৌক্তিকতা মানসিক স্বাস্থ্য রিভিউ ও মনিটরিং কমিটি ২৮ দিবস অন্তর অন্তর পুনর্বিবেচনা করিবে। এভাবে দ্বিতীয়বার ১২০ দিন এবং প্রয়োজনে পরবর্তীকালে ১৮০ দিবস পর্যন্ত ভর্তি রাখতে পারবে।’ তবে কেউ যদি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠেন কিংবা অন্যের ক্ষতি করতে পারেন, এমন ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে আটক রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তার বাবা-মা কিংবা বৈধ অভিভাবকের অনুমোদন নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইন অনুযায়ী প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকসহ একজন মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ থাকাও বাধ্যতামূলক; কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এর বালাই নেই। কোথাও একজন মাত্র মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভাড়া খাটেন। এ ছাড়া চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত নার্স, ওষুধ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা উপকরণ রাখা বাধ্যতামূলক হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এর ছিটেফোঁটাও নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনে এতসব নিয়মকানুনের কথা বলা হলেও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই সাইনবোর্ডসর্বস্ব। মাদকাসক্ত রোগী তো বটেই, অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকেও চিকিৎসার অজুহাতে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। এমনকি বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন এবং মাদক ব্যবসাসহ আরও নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যায়; কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব বিষয়ে নারকোটিক্স কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তেমন কার্যকর ভূমিকায় দেখা যায় না। তবে নারকোটিক্স কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স নিয়েছে। এর বেশিরভাগই রিকভারি এডিক্ট (এক সময় মাদকাসক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তি) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে সরকারি উদ্যোগে আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়; কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতায় এ খাতে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। এ ছাড়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও অনেকে এ খাতে বিনিয়োগ করতে রাজি হন না।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .