Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

এনইআইআর চালু নাখোশ বিক্রেতারা

বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর মোবাইল ব্যবসায়ীদের

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর মোবাইল ব্যবসায়ীদের

শুল্ক না কমিয়ে এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিটিআরসি ভবন ভাঙচুর করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী -যুগান্তর

মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতার অংশ হিসাবে বৃহস্পতিবার থেকে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এদিকে এনইআইআর চালুর প্রথম দিনে এর প্রতিবাদে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে। এদিন বিকাল ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় তারা একটি বাসও ভাঙচুর করেন। বন্ধ রাখা হয় সারা দেশের সব মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান। ব্যবসায়ীরা এনিআইআর স্থগিতদের দাবি জানিয়েছেন। বিটিআরসি জানিয়েছে, তাদের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হচ্ছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনইআইআর চালু থাকবে। অর্থাৎ নিবন্ধনবিহীন কোনো মোবাইল সেট বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে চালু হবে না। এ ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে মোবাইল সেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি জানিয়েছে, কোনো ঘোষণা ছাড়া এখনই এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীরা মানবে না। এ ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে কঠোর বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে এনইআইআর চালুর প্রথম দিনে পুরোনো কিছু মোবাইল সেট বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন অনেক গ্রাহক।

বিটিআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে এনইআইআর চালু হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিটিআরসি এবং সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। কারণ, ১০ ডিসেম্বর তিন মাস অর্থাৎ ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর কার্যকর ঠিক হয়নি।

জানা যায়, দুপুরে মোবাইল সেট ব্যবসায়ী সমিতির একদল নেতা বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে বিটিআরসিতে যান। বিকাল ৪টার দিকে বিটিআরসিতে হামলা হয়। এ সময় বিটিআরসি ভবনের বেশকিছু গ্লাস এবং সামনে রাখা বিআরটিসির একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৪/৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার পর তারা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে। ইটপাটকেল ছুড়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

মোবাইল ফোন বিজনেস কমিউনিটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ আসলাম যুগান্তরকে বলেন, হুট করে এনইআইআর চালু করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছি। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কেউ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেননি, যা দুঃখজনক। ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন, ট্যাক্স দেন। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে দেখা করেন না। তিনি বলেন, সারা দেশে বৃহস্পতিবার প্রায় ২৫ হাজার দোকান বন্ধ ছিল। তাদের হাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার মোবাইল সেট অবিক্রীত আছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বিটিআরসির ভবন ভাঙচুর করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এমনকি মোবাইল আমদানির শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এখন কেন তারা এনইআইআর মানছেন না, তা বোধগম্য নয়।

মোহাম্মদ আসলাম বলেন, ১০ ডিসেম্বর টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দফায় দফায় বৈঠক করে বলেছিল ১৫ মার্চ পর্যন্ত এনইআইআরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এখন আলাপ না করে এটি চালু করায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন। সুতরাং ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি নিয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে আবারও মাঠে নামবে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এনইআইআর ব্যবস্থায় যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই এটি চালু করা হচ্ছে। বিষয়টিকে সিন্ডিকেটের স্বার্থে সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনগণের সঙ্গে এই সরকারের ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করছেন তারা। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগেরও দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমবিসিবি।

গত ২৯ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

এরপর পৃথক দুটি বৈঠকে বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেগুলো প্রচারও করেছিল। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয় বিটিআরসি।

সকাল থেকে রাজধানীর বৃহৎ দুই বিপণিবিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কে সরেজমিন দেখা যায়, মোবাইল বিক্রির দোকানগুলো বন্ধ আছে। এখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মীরা জানান, সংগঠনের ডাকা কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে তারা দোকান বন্ধ রাখছেন।

এমবিসিবির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস যুগান্তরকে বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়-এনইআইআর চালু হলেও আমাদের তিন মাসের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়া হবে। এই সময়ে দেশের নেটওয়ার্কে আসা কোনো মোবাইল ফোনই বন্ধ হবে না বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা অবাধে ডিভাইস আমদানি করতে পারবে এবং ভবিষ্যতেও মোবাইল আমদানিতে কোনো সিন্ডিকেটের অনুমতি নিতে হবে না। সেই বৈঠকে বিটিআরসির প্রতিনিধিও ছিলেন। বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে গণমাধ্যমেও প্রচার করেন তারা।

কিন্তু বিটিআরসি প্রতিশ্রুতির এসব বিষয় বাস্তবায়ন না করেই এনইআইআর চালু করছে। এজন্যই দোকান বন্ধ রেখে মোবাইল ফোন বিক্রি স্থগিত রাখছি।’

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এনইআইআরভুক্ত মোবাইল সেট হচ্ছে ১৮ কোটির বেশি। এর মধ্যে অপারেটরের সমস্যার কারণে কিছু সেট বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেগুলো ঠিক করা হয়। বিটিআরসির ঘোষণা অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু সব মোবাইল সেটের কোনো ধরনের নিবন্ধন লাগবে না। দেশের বিক্রি হওয়া মোবাইল সেটের ৫০ শতাংশের বেশি অবৈধভাবে দেশে আমদানি করা হয়। দেশে স্মার্টফোনের ওপর সরকারের আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশের বেশি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম