সিপিডির সংবাদ সম্মেলন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা স্থগিতের দাবি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনার (২০২৬-৫০) খসড়া একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। একটি পক্ষকে খুশি করতে এটি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ মহাপরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই-এমন মন্তব্য করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের এ পরিকল্পনা শিগগির স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা দরকার। কিন্তু সরকার সম্প্রতি যে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া করেছে সেটি একটি উলটো যাত্রার ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞ ছাড়া আমলাদের দিয়ে এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এ খাতের মূল সমস্যা না বুঝে কয়লাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এ মাস্টারপ্ল্যান। এতে ২০৫০ সালে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার চেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে। পুরো মাস্টারপ্ল্যান দেখলে মনে হবে একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে খুশি করতে এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী মাসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে। সেই চুক্তির অনেক ছায়া এখানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়ন্তী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিদ্যুৎ খাতে মহাপরিকল্পনা (২০২৩) করা হয়েছিল। সেটার চেয়ে এবার অন্তর্বর্তী সরকারের মহাপরিকল্পনা আরও খারাপ হয়েছে। ২০৪০ সালে ৪০ হাজার ৮৩৬ এবং ২০৫০ সালে ৫৯ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ধরেছে বর্তমান সরকার। এ বিদ্যুতের ৪৫ শতাংশ উৎপাদন করা হবে গ্যাস বা এলএনজি দিয়ে। কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এখন কয়লা দিয়ে ৬ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট করা হলেও এটি ১২ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর বাইরে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ দিয়ে একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায় বিদ্যুতের দাম কিছুটা সহনশীল হলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে এবং এলএনজি ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। কিন্তু নেপাল-ভুটান থেকে কম দামের জলবিদ্যুৎ আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এলএনজি টার্মিনাল বসানো ও আমদানির জন্য ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে ২০৫০ সাল পর্যন্ত। অথচ ওই সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যয় করা হবে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন, রিফাইনারির জন্য ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন, হাইড্রো বা জিওথার্মালে ৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ৮৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন, সঞ্চালনে ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন এবং বিতরণে ১০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১০৭ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এ ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে হাইড্রোজেন এবং জিওথার্মালকে দেখানো হয়েছে। যা মোটেও উচিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে ভর্তুকির পরও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবিকে প্রচুর টাকা লোকসান দিতে হয়। গত বছর পিডিবি লোকসান করেছে ১০ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। এতে আরও বলা হয়, অঞ্চলভিত্তিক স্মার্ট গ্রিডের কাজ ২০৪০ সাল থেকে করা হবে। কিন্তু সেটি এখন শুরু করলে সমস্যা কোথায়? এছাড়া চট্টগ্রাম জোনে আরও একটি পরমাণু কেন্দ্র বসানোর পরিকল্পনা অযৌক্তিক। কারণ সেখানে প্রচুর নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে, জ্বালানি বা গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে জোর দেওয়া হয়নি। এলএনজি আমদানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এ মহাপরিকল্পনা ভালো হয়নি এবং কোনো ভাবে যাচাই-বাছাই না করে চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়ার দাবি জানান সিপিডির গবেষকরা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের এ মহাপরিকল্পনা স্থগিত করে নির্বাচনের পর সবাইকে নিয়ে একটি নিরপেক্ষ প্যানেল গঠন করা যেতে পারে। যেখানে সরকার তার মতামত দেবে। তিনি নতুন সরকারকে আমলাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে জনবান্ধব নীতিমালা করারও দাবি জানান।
