কেমন সরকার চাই
সব ধরনের বৈষম্য কমাবে এমন সরকার দেখতে চাই: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী সরকার কেমন হবে তা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে আগামীর সরকারকে। প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ১০০ দিনে কী করবে, ছয় মাসের মধ্যে কী করবে, এক বছরের মধ্যে কী করবে এবং দুই বছরের মধ্যে কী করবে, তার রূপরেখাও দিতে হবে।
লুটপাটতন্ত্র বহাল রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসসাধন, গণতন্ত্রের ক্রমাগত সংকোচন, মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধারাবাহিকভাবে খর্ব করায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে অনিশ্চিত ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।
সেলিম বলেন, বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে চরম ডানপন্থি এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নানা ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা। তারা (ডানপন্থি ও উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী) দেশকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র, বিভ্রান্তি এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখা জরুরি কর্তব্য। বর্তমান সংকটের বাস্তব মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ মুক্তির স্বপ্নকে একসূত্রে গাঁথার এক দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার করতে হবে নতুন সরকারকে।
পাশাপাশি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন; প্রকৃত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ; নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা; বৈষম্য হ্রাস, মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন; কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন; জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার গণমুখী সংস্কার; কৃষিব্যবস্থার সংস্কার ও গ্রামের উন্নয়ন নিশ্চিত করা; শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করা;
নারী অধিকার; যুবশক্তির বিকাশ ঘটাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ; পরিবহণ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সংস্কার; প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা; বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার; গণমাধ্যম, তথ্যের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল সামাজিক চেতনার বিকাশ ঘটানো এবং পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

