Logo
Logo
×

শেষ পাতা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন এডিপি

বৈদেশিক ঋণের লাগাম টানতে চায় সরকার

হামিদ-উজ-জামান

হামিদ-উজ-জামান

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বৈদেশিক ঋণের লাগাম টানতে চায় সরকার

ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে বৈদেশিক ঋণের লাগাম টানার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে যেনতেন প্রকল্পে বিদেশি ঋণ নেওয়া যাবে না। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কড়াকড়ি আরোপ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। বৃহস্পতিবার জারি করা এডিপির নীতিমালায় এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী বছরে বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়নে দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। এছাড়া যেসব প্রকল্প সমাপ্তের জন্য চিহ্নিত করা হবে সেগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে বলা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ যুগান্তরকে বলেন, নীতিমালা কার্যকর করতে হলে মন্ত্রী পর্যায় থেকে মনিটরিং করতে হবে। শুধু আমলাদের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নতুন সরকারের বেশকিছু নীতি আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রমে থাকবে। তাই কঠোর তদারকি দরকার।

তার মতে, বৈদেশিক ঋণ নিতে হবে। কিন্তু সেটা যেন উপযুক্তভাবে কাজে লাগে তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢালাওভাবে ঋণ নিলে হবে না। এছাড়া নদী ও খাল খনন বিষয়ে চট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে দেশের নদী ও খালগুলো নিয়ে বিশদভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই প্রকল্প হাতে নিলে কার্যকর হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এডিপির নীতিমালায় ঢালাওভাবে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়, বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প যেগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেমন-দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, ক্রীড়া পেশার উন্নয়ন, মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ ধরনের প্রকল্প বৈদেশিক ঋণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে। আরও আছে, ডিজিটাল অর্থনীতি, খাল খনন ও নদী পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্প। এছাড়া সবুজ ও জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নয়নে যেসব প্রকল্প সরাসরি প্রভাব ফেলবে সেগুলোকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে বৈদেশিক অর্থায়নপুষ্ট (চুক্তি স্বাক্ষরিত বা সহায়তা প্রাপ্তির সুনিশ্চিত অঙ্গীকারপ্রাপ্ত) প্রকল্প বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের জন্য ম্যাসিং ফান্ড হিসাবে সরকারি তহবিলের অর্থ রাখতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যেনতেন প্রকল্প গ্রহণ, অপচয় রোধ এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দিতে হবে। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন প্রকল্পে গুরুত্ব কম দিতে বলা হয়েছে। কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃত পক্ষে দেশ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্ব মনে হলেই শুধু সেসব প্রকল্প যুক্ত করা হবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের যেসব প্রকল্প এখনো এডিপি বা সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নেই সেগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। আগামী অর্থবছরের সমাপ্ত যোগ্য প্রকল্প অবশ্যই বাছাই করে অর্থের চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে চলমান ধীরগতি সম্পন্ন প্রকল্প অথবা অন্য কোনো প্রকল্পের চাহিদা কমিয়ে হলেও সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে হবে। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হবে এমন কোনো প্রকল্প নতুন এডিপিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। তবে মেয়াদ বাড়ানোর পর এডিপি তৈরির সময় সীমার মধ্যেই হালনাগাদ করে নতুন এডিপিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া যাবে।

এদিকে এডিপি বইয়ের সবুজ পাতায় অনুমোদনহীন নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে যুক্ত প্রকল্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। এজন্য আবশ্যিকভাবে পুনরায় নতুন প্রকল্প প্রস্তাব দিতে হবে এবং এডিপিতে অনুমোদনহীন নতুন প্রকল্প সীমিত রাখতে হবে। নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতিবিষয়ক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া একই সংস্থার অধীন বাস্তবায়িতব্য একই উদ্দেশ্যে বা একই প্রকৃতির একাধিক ক্ষুদ্র প্রকল্প পৃথকভাবে প্রস্তাব করা যাবে না। এক্ষেত্রে একটি প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলো প্রস্তাব করতে হবে। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান (প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) নির্মাণ বা প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত প্রকল্প ঢালাওভাবে প্রস্তাব করা যাবে না। এক্ষেত্রে বিদ্যমান একই প্রকৃতির প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মক্ষমতা, কার্যকারিতা ও ভৌগোলিক অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে প্রকল্প প্রস্তাব করতে হবে। যেসব প্রকল্প পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত হবে সেসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম