Logo
Logo
×

শেষ পাতা

খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প প্রস্তাব

অত্যধিক ব্যয় দেখিয়ে লুটপাটের শঙ্কা

হামিদ-উজ-জামান

হামিদ-উজ-জামান

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অত্যধিক ব্যয় দেখিয়ে লুটপাটের শঙ্কা

খোয়াই নদী। ছবি: সংগৃহীত

খোয়াই নদী পুনরুদ্ধারে অত্যাধিক ব্যয় দেখিয়ে লুটপাটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে ঘনমিটারপ্রতি পুনর্খনন ব্যয় ধরা হয়েছে চলমান একই প্রকৃতির অন্য প্রকল্পের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দ চাওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা এ প্রকল্পের বেশকিছু বিষয়ে আপত্তি দিতে যাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। ‘পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের প্রস্তাবে ঘটেছে এমন ঘটনা। এটি নিয়ে ৯ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হওয়া কথা থাকলেও সেটি হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) বাবুল মিঞা যুগান্তরকে বলেন, তাদের ডিজি আসতে পারবেন না বলে আমরা পিইসি সভা করিনি। অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব বিষয়ে তিনি বলেন, পিইসি সভায় সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া না গেলে আমরা রেট সিডিউল অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করতে বলব। কোনোভাবেই অতিরিক্ত ব্যয় ধরার সুযোগ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাইব।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা। প্রক্রিয়াকরণ শেষে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের আওতায় হবিগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত পুরাতন খোয়াই নদীর পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সেই সঙ্গে ৪ কিলোমিটার পুনর্খননের মাধ্যমে নদীটিকে পুনরুদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি দুই পাড়ে ৩ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি, দুটি রেগুলেটর নির্মাণ এবং ৩টি ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি পুরো এলাকাকে পর্যটন ও অবকাশ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে।

সূত্র জানায়, নদী পুনর্খনন কাজে প্রতি ঘনমিটার মাটি খনন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৬ টাকা ৩৩ পয়সা করে। এটিকে অত্যধিক বলে মনে করেছে পিইসি। এক্ষেত্রে সমজাতীয় চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের প্রতি ঘনমিটার পুনর্খনন কাজের ব্যয়ের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশন। যেখানে বলা হয়েছে, পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পে যেখানে ঘনমিটার প্রতি পুনর্খনন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬৬ টাকা ৩৩ পয়সা, সেখানে হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ধরা হয়েছে ১৭৪ টাকা ০৫ পয়সা করে। এছাড়া সিলেট জেলার সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলার দশগ্রাম, মাহতাবপুর ও রাজাপুর পরগনা বাজার এলাকা সুরমা নদীর উভয় তীরের ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্পে ধরা হয় ১৯৩ টাকা ১১ পয়সা করে।

এ বিষয়ে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ঠিকাদারের লাভসহ ধরলে এই ধরনের খনন কাজের ঘনমিটার প্রতি ব্যয় ১০০ থেকে ২২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। উল্লিখিত প্রকল্পটিতে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে লুটপাটের যথেষ্ট সুযোগ আছে। আমার তো মনে হয় বিষয়টি এত সহজে ছাড় না দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত। এটি পরিকল্পিত লুটপাটের আয়োজনও হতে পারে। অবশ্যই প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনকে আরও বেশি কঠোরহস্তে এসব দমন করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, নদী খননকৃত স্থান (জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন), নকশা, পরিমাপ (প্রস্থ ও গভীরতা) উল্লেখসহ খনন স্থানের তালিকা ডিপিপিতে সংযুক্ত করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এর যৌক্তিকতার বিষয়েও জানতে চাওয়া হবে পিইসি সভায়। প্রকল্প প্রস্তাবে ২টি (২ ভেন্ট) রেগুলেটর নির্মাণ বাবদ ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়। এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে সভায়। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ৩টি ব্রিজ নির্মাণ বাবদ ১১ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। কিন্তু অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী এ কাজ স্থানীয় সরকার বিভাগের হওয়ায় প্রস্তাবিত প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে ৩ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ বাবদ ৬ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা (মিটার প্রতি ২০ হাজার ৫৫০) টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। এটিও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজ হওয়ায় প্রকল্প থেকে বাদ দিতে বলা হয়েছে। ডিপিপিতে ৩১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বাবদ ৯৭ লাখ ৩৭ হাজার (প্রতিটির জন্য ৩১ হাজার ৪০৯ টাকা) টাকা সংস্থান রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম