Logo
Logo
×

শেষ পাতা

অগ্নিঝরা মার্চ

ঢাকায় ইয়াহিয়া অসহযোগে উত্তপ্ত দেশ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় ইয়াহিয়া অসহযোগে উত্তপ্ত দেশ

একাত্তরের আগুনঝরা মার্চে সারা দেশে চলা টানা অসহযোগ আন্দোলন মুক্তিকামী বাঙালির কাছে অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়। প্রতিপক্ষের আঘাতের জবাব দেওয়ার জন্য ততদিনে সবাই প্রস্তুত। পাক সামরিক জান্তাও বুঝতে পারে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঠেকানো যাবে না। ফলে শুরু করে নানা কূটকৌশল। এরই অংশ হিসাবে এই অগ্নিঝরা মার্চের ১৫তম দিনে করাচি থেকে পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় এলেও বাঙালিরা স্বাধীনতার দাবি থেকে একচুলও সরেনি। বরং এই দাবিতে সারা দেশ ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছিল। বিভিন্ন শহরে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং চলতে থাকে। এদিনও সরকারি-বেসরকারি ভবনে এবং যানবাহনে উড়ানো হয় কালো পতাকা।

১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ছিল সোমবার। এদিন নেত্রকোনায় সুইপার ও ঝাড়ুদাররা ঝাড়ু, দা, লাঠি ও কোদাল নিয়ে মিছিল বের করেন। বগুড়া, খুলনা, রংপুর, লাকসাম, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার সপক্ষে মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কবি সুফিয়া কামালের সভাপতিত্বে তোপখানা রোডে মহিলাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেতার ও টিভি শিল্পীরা দেশের গান পরিবেশন করেন। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে গণসংগীত, পথনাটক পরিবেশন করেন। নতুন সামরিক বিধি জারির প্রতিবাদে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ছাত্র সভার আয়োজন করে। সভায় ছাত্র নেতারা অবিলম্বে বাংলাদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে দেশবাসীকে তাদের অধিকারবঞ্চিত করার প্রতিবাদস্বরূপ শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা তাদের খেতাব বর্জন অব্যাহত রাখেন। শিল্পাচার্য জয়নুলের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন এবং অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী তাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব বর্জন করেন। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে এ খেতাব বর্জনের বিষয়টি ব্যাপক সাড়া ফেলে।

খুলনার হাদিস পার্কের জনসভায় বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ আজ বঙ্গবন্ধুর পেছনে একতাবদ্ধ। রেডিও, টিভি, ইপিআর, পুলিশ বাহিনী, সেক্রেটারিয়েট প্রভৃতি আজ আওয়ামী লীগ প্রধানের আজ্ঞাবাহী।

পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো করাচিতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাবি উত্থাপন করে বলেন, কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও পিপলস পার্টির সমন্বয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে।

করাচিতে এক জনসভায় কয়েকজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা বলেন, ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনেক কথাই বলেছেন। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন তার পিপলস পার্টি এই অঞ্চলে শতকরা আটত্রিশ ভাগ ভোটও পায়নি। তারা বলেন, ক্ষমতা লাভ করার জন্য আওয়ামী লীগই একমাত্র দল।

রাতে ঢাকায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ বিবৃতির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ব্যাখ্যা করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে জনগণের নিরঙ্কুশ সাড়া পাওয়া গেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম