আদালতে মামুন খালেদ
ডিজিএফআইয়ের ২০ মাস জীবনের কালো অধ্যায়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিতে মামুন খালেদ আদালতকে বলেন, ৪৪ বছর চাকরি করেছি। এরমধ্যে এক বছর ৮ মাস ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলাম। ওই সময়টা আমার জন্য কালো অধ্যায়।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আড়াই বছর চাকরি করেছি। কানাডিয়ান একটা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছি। বিইউপিতে উপাচার্য ছিলাম। আমার তিনটা পিএইচডি, পাঁচটা মাস্টার্স। অনুকম্পা চাই।
এদিন মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি’র উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে মকবুল হত্যা মামলায় মামুন খালেদকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামি পক্ষে মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হাসিনা যেন ক্ষমতা থেকে পড়ে না যান, এজন্য সহযোগিতা করেন মামুন খালেদ।
এর আগে ২৫ মার্চ রাতে মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৬ মার্চ মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় তার আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সবশেষ ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি’র হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায় ও ভাঙচুর করে। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
