Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

এনবিআরের প্রতিবেদন

পোশাক খাতে বছরে ৫৮২৯ কোটি টাকা আয়কর ছাড়

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পোশাক খাতে বছরে ৫৮২৯ কোটি টাকা আয়কর ছাড়

এক বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যে পরিমাণ আয়কর আদায় করে, তার প্রায় সমপরিমাণ অর্থ কর ছাড় দেওয়া হয়। শুধু ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর-ছাড় ও রেয়াতের কারণে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে এক লাখ ৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। যা জিডিপির ২.৩৯ শতাংশ এবং আয়কর আদায়ের প্রায় ৯৯ শতাংশের সমান। পোশাক খাতে ওই বছর ৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কর ছাড় সংক্রান্ত এনবিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর ছাড়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, কর ছাড়, রেয়াত ও কম হারে কর আরোপের মাধ্যমে এই ব্যয় তৈরি হয়। এগুলো এক ধরনের পরোক্ষ ভর্তুকি হিসাবে কাজ করে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে ব্যবহার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বাজেটে কিছু দীর্ঘমেয়াদি কর-ছাড় প্রত্যাহার এবং নির্ধারিত সুবিধা আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, মোট কর-ব্যয়ের ৬৯ শতাংশ করপোরেট আয়কর খাতে, যার পরিমাণ ৭৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। এই সুবিধার বড় অংশ গেছে ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক কল্যাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং তৈরি পোশাকসহ সংশ্লিষ্ট খাতে। করপোরেট করের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করছাড় পায় ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব খাতে বছরে ছাড় পায় ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে করছাড়ের পরিমাণ ৭ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। মূলধনী আয় খাতে ছাড় পায় ৭ হাজার ৭১ কোটি টাকা। আর তৈরি পোশাক খাত পায় ৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার সুবিধা।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়কর খাতে কর-ব্যয় হয়েছে ৩৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, যা মোটের ৩১ শতাংশ। ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের মধ্যে বেতন আয় খাতে সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকার করছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পোলট্রি ও মাছ চাষের সঙ্গে জড়িতদের ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ৮১৭ কোটি টাকার করছাড় দেওয়া হয়েছে।

কর-ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে প্রতিবেদন। এতে সময়সীমা নির্ধারণ করে অপ্রয়োজনীয় কর-ছাড় ধাপে ধাপে তুলে দেওয়া, জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রণোদনা সামঞ্জস্য করা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষত রপ্তানি বৈচিত্র্য, সবুজ অর্থনীতি, এসএমই খাত, লিঙ্গ সমতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্যে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .