Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

বিবিএসের জরিপ

ইন্টারনেট সেবার বাইরে দেশের অর্ধেক মানুষ

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্টারনেট সেবার বাইরে দেশের অর্ধেক মানুষ

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও এখনো প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এর বাইরে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপের তথ্য বলছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও এই সেবার বাইরে আছে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা। আর সবচেয়ে পিছিয়ে শেরপুর। এছাড়া অধিকাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার এই জরিপ প্রকাশ করা হয়। জরিপ প্রকল্পের শিরোনাম : ‘আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। ফলাফল তুলে ধরেন জরিপ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি। জনসংখ্যার এই বড় অংশটি ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে থাকার কারণ হিসাবে তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। এগুলো হলো ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকা। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। এছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে, যা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা দিচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা গেলেও ব্যক্তিগত মালিকানায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। দেশে মোট ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। অন্যদিকে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, যা মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার বলেন, সঠিক পরিকল্পনার জন্য জরুরি সঠিক পরিসংখ্যান। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার। তবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ রানা চৌধুরী বলেন, মাঠপর্যায়ে আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি জরিপে তাই তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের কিছু তথ্য নিয়ে আমারও প্রশ্ন জেগেছে। তবে সেটা এই জরিপের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ তারা সেসব কারণ তুলে ধরতে পারবেন। পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার ও প্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চল ভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সবচেয়ে বেশি হলেও শেরপুরে তা সর্বনিম্ন। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে সরকারি চাকরিসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলাসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, যেখানে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী এ ধরনের সেবা গ্রহণ করেছেন। ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের মধ্যে মৌলিক কাজের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। কপি-পেস্ট করার দক্ষতা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে, যা সবচেয়ে সাধারণ ডিজিটাল কার্যক্রম হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। ১৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফাইল স্থানান্তর করতে পারে। তবে এর বাইরে উন্নত দক্ষতার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ঝুঁকিও কম নয়। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসাবে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদিকে, ইন্টারনেট সেবার উচ্চমূল্যও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসাবে সামনে এসেছে। জরিপে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন, উচ্চ খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল সেবা সবার নাগালে আনতে হলে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও জোর দিতে হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম