বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
উৎপাদন ব্যয় বেশি থাকায় বিনিয়োগ নিম্নমুখী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমলেও জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও ঋণের চড়া সুদের কারণে উৎপাদন ব্যয় এখনো অনেক বেশি। এতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিম্নমুখী এবং আর্থিক খাতে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে চলতি ও আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত ‘বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক প্রসপেক্টস, জুন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে জানুয়ারিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময়ে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি সে তুলনায় জুনে পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে। কিন্তু পণ্যের উৎপাদন ব্যয় এখনো অনেক বেশি রয়ে গেছে। জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেশি। সরবরাহ সংকটও রয়েছে। ঋণের সুদের হারও চড়া। যে কারণে উৎপাদন খাতের ব্যয় এখনো বেশি রয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয় বেশি থাকার কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে এখনো দ্বিধায় রয়েছেন। এ জন্য বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে অর্থের জোগান দেওয়ার মতো সক্ষমতা আর্থিক খাতের নেই। আর্থিক খাত এখনো ভঙ্গুর রয়ে গেছে। ফলে ঋণের প্রবৃদ্ধিতে এখনও মন্থর গতি অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক খাতের সম্পদের মান ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বৃদ্ধি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংকের চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। জুনে তা কমিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ করেছে। জানুয়ারির তুলনায় জুনে প্রবৃদ্ধির হার কমানো হয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। জানুয়ারিতে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। জুনে তা কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ করেছে। ওই বছরের জন্য জানুয়ারির তুলনায় জুনে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।
মূলত বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ নিম্নমুখী, ঋণ প্রবাহে মন্থর গতির কারণে বেসরকারি খাতের কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ার কারণে সংস্থাটি প্রবৃদ্ধির হার কমিয়েছে। আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানুয়ারির তুলনায় জুনে কমানো হলেও চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতির প্রবণতা কিছুটা কমবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির প্রবণতাও কিছুটা কমবে। তবে বৃহস্পতিবার ঘোষিত বাজেটে সরকার আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
