‘অভিমানী’ সেই কুমির ১৮ দিন অনশনে
শর্ত মিললে আবারও ফিরতে পারে মাজারে
বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে খুলনায় আনা কুমিরটি ১৮ দিন অভুক্ত পড়ে আছে। সম্প্রতি তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চেনা দিঘি ছেড়ে নতুন ঠিকানায় এসে অভিমানে যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজারের সেই কুমিরটি। টানা ১৮ দিন কিছুই মুখে তোলেনি এটি। মুরগি দেওয়া হয়েছে, পানিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে হাঁস; কিন্তু কিছুতেই আগ্রহ নেই কুমিরটির। ১ জুন সন্ধ্যায় মাজারের দিঘিতে ফাতেমা নামের এক শিশুকে কুমিরটি টেনে নিয়ে যাওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপর ৩ জুন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বহু চেষ্টায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।
মিঠাপানির কুমিরটির বয়স প্রায় ৫০ বছর। দৈর্ঘ্য ৭-৮ ফুট। ওজন ৫০০-৬০০ কেজি। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে চেনা পরিবেশে ফিরতে ছটফট করছে এটি। বারবার ধাক্কা দিচ্ছে খাঁচার গেটে। বন বিভাগ বলছে, মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তে মাজার কমিটি কুমিরটিকে আবারও দিঘিতে ফিরিয়ে নিতে পারবে। বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) নির্মল কুমার পাল বলেন, মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরটি মাঝেমধ্যেই দিঘি থেকে লোকালয়ে চলে যেত। এতে যেমন মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তেমনই ক্ষুব্ধ জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কাও থাকে। মাজার কমিটি যদি দু-এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমাদের জানায়, তবে কুমিরটিকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
ডিএফও নির্মল কুমার আরও বলেন, সরীসৃপ প্রাণী একবার খেলে দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকতে পারে। বাগেরহাট থেকে খুলনায় আনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কুমিরটি কিছুই মুখে তোলেনি। খাওয়ার জন্য মুরগি এবং সহজে শিকারের সুবিধার্থে পানিতে হাঁস বেঁধে দেওয়া হলেও খাচ্ছে না। এমনকি খাঁচায় দেওয়া মুরগি শিকার করে মেরে ফেললেও তা খায়নি। এই বন কর্মকর্তা জানান, খাবার না খেলেও কুমিরটির সুরক্ষায় কোনো কমতি রাখছে না বন বিভাগ। অ্যানিমেল কিপার ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এর সেবা-যত্ন করছে। কুমিরটির থাকার পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং গরম পড়লে এর শরীরে ফ্রেশ পানি স্প্রে করা হচ্ছে। খানজাহান আলী মাজারের দিঘিতে একসময় ঐতিহ্যবাহী ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি বিখ্যাত কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ (চেন্নাই) থেকে কয়েকটি মিঠাপানির কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। তবে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে কয়েকটি কুমির মারা যায়। এখন এই একটি কুমিরই বেঁচে আছে।

