বিপিসি সদর দপ্তর
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরানোর সুপারিশ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় (সদর দপ্তর) চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি, মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয় সহজ, অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি এবং সারা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে যুক্তি দেখিয়েছেন তিনি। তবে প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরাতে গেলে আইন সংশোধন করতে হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, চট্টগ্রামকে ‘গুরুত্বহীন’ করতেই একটি পক্ষ বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নিতে চাইছে। তারা বলছেন, চট্টগ্রামের সার্সন রোডে নিজস্ব জায়গায় বিপিসি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করেছে, যা দু-এক মাসের মধ্যেই উদ্বোধন করা যাবে। এ অবস্থায় প্রধান কার্যালয় ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে সরকারের নীতির পরিপন্থি। তাছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও এ বিষয়ে ইতঃপূর্বে গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে সরবে না। এরপরও বিপিসি চেয়ারম্যানের এমন সুপারিশে বিস্মিত চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে সরবে না বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমাদের বিশ্বাস, যে যত সুপারিশই করুক না কেন এর ব্যত্যয় ঘটবে না।
এদিকে বিপিসির আওতাধীন ইআরপিএলসি, এলপিজিএলসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯টি অডিট আপত্তি থাকার বিষয় উঠে এসেছে চিঠিতে। অনিয়ম-দুর্নীতি বা বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের ওপর আপত্তি দেওয়া হয়েছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি বলেও চিঠির সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সংসদের প্রথম অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন একটি নোটিশে জনস্বার্থে বিপিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের আবেদন জানান। এরপর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে মতামত জানানোর জন্য বিপিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত জানাতে চিঠি ইস্যু করেন। সংগৃহীত মতামতের ভিত্তিতেই জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে পাঠানো চিঠিতে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের পক্ষে বিপিসি চেয়ারম্যান সুপারিশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিবকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিপিসির আওতাধীন সেবার পরিধি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত/স্থাপিতব্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ঢাকা থেকে তত্ত্বাবধান, সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হয়। তাছাড়া, বিপিসির প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। প্রশাসনিক কার্যক্রমের কারণে বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় অফিস করতে হয়। ফলে করপোরেশনের আর্থিক ব্যয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোসিয়েশন সভা আয়োজনসহ দ্বিপাক্ষিক সভাসমূহ প্রধানত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ফলে, এ বিভাগের বাণিজ্যিক কার্যক্রমসমূহ ঢাকা থেকে সম্পাদন করা গেলে তা সহজতর ও সাশ্রয়ী হবে। সূত্র জানায়, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসাবে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয়। বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ জ্বালানি তেল মজুত ও বিপণনকারী ৮টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের প্রধান স্থাপনাও চট্টগ্রামে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরানোর বিপিসি চেয়ারম্যানের সুপারিশ কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এটি চট্টগ্রাম বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।’

