Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

সততা ও দেশপ্রেমের পুরস্কার

এনবিআর চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এনবিআর চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগে পেয়েছেন এনবিআর-এর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আহসান হাবিব। সোমবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে দুপুরে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ অনুমোদন হওয়ার পর খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে এনবিআর প্রশাসনে আনন্দের বন্যা বইছে। কারণ, প্রথমবার আয়কর ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে সরকার এনবিআর চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দিয়েছে; যা ছিল দুই ক্যাডারের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এছাড়া এনবিআর প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের অনেকে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে সরকার সবাইকে একটি বার্তা দিয়েছে। সেটি হলো-সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের মূল্যায়ন। তারা বলেন, এনবিআর-এর শীর্ষ কর্মকর্তা আহসান হাবিব সবার কাছে একজন সৎ, সাহসী ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। বর্তমানে বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

এছাড়া আহসাব হাবিবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এনবিআরকে বড় ধরনের চক্রান্ত ও বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। তখন এই ইস্যুতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দাবি আদায়ের নামে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়ে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নামে। সেসময় তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সেই আন্দোলন সামাল দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আহসান হাবিব সর্বপ্রথম এস আলমের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি অনুসন্ধান শুরু করেন। এরপর সিআইসির মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় দেশের শীর্ষ ১০ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি অনুসন্ধান শুরু করেন। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া বিপুল পরিমাণ কর আদায়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও বিদেশে পাচার করা ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ শনাক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৫তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের জাতীয় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এছাড়া বিসিএস (কর) একাডেমির বিভাগীয় প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার প্রশিক্ষণে এ-প্লাস এবং বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ফাউন্ডেশন কোর্সেও এ-প্লাস অর্জন করেন।

কর্মজীবনে কর নিরীক্ষা, ট্রান্সফার প্রাইসিং, কর মূল্যায়ন, তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, কর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর, ই-ফাইলিং ও ই-পেমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ইউরোপে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সরকারি সফর ও পেশাগত কার্যক্রমে অংশ নেন। এছাড়াও আহসান হাবিব দুর্নীতি দমন কমিশন, বিসিএস (কর) একাডেমি, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রিসোর্স পারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও সফল আহসান হাবিব। তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) নিউক্লিয়ার ফিউশন বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন। মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষে বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করছেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .