সংসদের দুই অধিবেশন
কমিটি গঠনে ধীরগতি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইন প্রণয়নের বাইরে সংসদীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে কি না, তাদের সফলতা-ব্যর্থতার পাশাপাশি কোথাও কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তারা। অনেকটা ছায়া সরকার হিসাবে বিবেচিত এই কমিটি গঠনের কাজ সংসদের গত দুই অধিবেশনেও শেষ করতে পারেনি শাসক দল বিএনপি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কমিটি গঠনে এই ধীরগতি সংসদীয় গণতন্ত্রচর্চার জন্য সুখকর দিক নয়। এতে মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার কাজটি পিছিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, সংসদীয় কমিটির অনেক ক্ষমতা তা নয়; তবে তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, ভালো-মন্দ তদারকি করতে পারে। মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। এটা অবশ্যই সংসদীয় গণতন্ত্রে ইতিবাচক দিক। কমিটি গঠনে দেরি হলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেখভাল করার ক্ষেত্রে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হবে। তবে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় চাইলেই দ্রুততার সঙ্গে কমিটি করা সম্ভব হয় না। যেগুলো দ্রুত করতে হবে, সেগুলো আমরা করেছি। কিছু কমিটি আছে যেগুলো স্পিকার নিজে করবেন। এছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আমরা নাম চেয়েছি, তারা নাম দিলেই কমিটি গঠন শেষ হবে। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করতে হবে। মাত্র দুটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। আশা করি, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সব কমিটি গঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৪৬ বিধি অনুযায়ী, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। কার্যপ্রণালিবিধিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এসব কমিটি খসড়া বিল ও অন্যান্য আইন প্রণয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব পরীক্ষা করবে, আইন বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ দেবে এবং সংসদ অর্পিত অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবার বিরোধী দলের আসনে বসে জামায়াতে ইসলামী। ১২ মার্চ শুরু হয় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাশ হয়। আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি এবং দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
সংসদের দ্বিতীয় ও বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হয় ৭ জুন। ১১ জুন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পর ৩০ জুন বাজেট পাশ হয়। এরপর মাঝে ছয় দিনের বিরতি শেষে ১৫ জুলাই শেষ হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ফলে দুই অধিবেশনের ৫১ কার্যদিবসে তিনটি বিশেষসহ গঠিত কমিটির সংখ্যা ১৮টি। সংসদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে গঠিত হয়েছে মাত্র ১৫টি। অর্থাৎ আরও ৩৫টি কমিটি গঠনের কাজ বাকি।

