বিশ্ব বাঘ দিবস আজ
সুন্দরবনে নয় বছরে বেড়েছে ১৯ বাঘ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেছে বন বিভাগ। ২০১৫ সালে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালের জরিপে ১২৫টি বাঘের তথ্য মিলেছে। এতে করে ২০১৫-২০২৪ সাল ৯ বছরে বাঘ বেড়েছে ১৯টি। সাতক্ষীরা, খুলনা এবং চাঁদপাই-শরণখোলা রেঞ্জে বিভিন্ন সময় বন বিভাগ জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছিল। ২০১৫ সালে এসব রেঞ্জে ১ হাজার ২১৫ বর্গকিলোমিটার, ২০১৮ সালে ১ হাজার ৬৫৬ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ২৪০ বর্গকিলোমিটারে এই জরিপ করা হয়।
বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ আগের তুলনায় মানুষের নজরে বেশি আসছে। তাছাড়া বনে বর্তমানে বাঘের খাবারের সংকট নেই। বাঘের প্রধান খাবার চিত্রা হরিণ এবং বন্য শুকরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি কটকা, কচিখালী এবং শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। গেল এক বছরে সুন্দরবনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা লাইভ বাঘ দেখতে পেয়েছেন। এমনকি বন বিভাগের বিভিন্ন অফিসেও বাঘের বিচরণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, সুন্দরবনে চিত্রা হরিণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি এবং বন্য শূকর ৪৭ হাজার ৫১৫টি। বাঘের খাবারের ৭৮ ভাগ চিত্রা হরিণ, ১১ ভাগ বন্য শূকর এবং ১১ ভাগ অন্য স্থান থেকে আসে।
এদিকে সুন্দরবনে গেল ২৪ বছরে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুষ্কৃতকারীদের হাতে হত্যা করা হয়েছে ২৬টি এবং গণপিটুনিতে মারা গেছে ১৪টি বাঘ। এটি খুলনা ও বাগেরহাট জেলার মধ্যে পড়া সুন্দরবন পূর্ব এবং পশ্চিম বন বিভাগের চিত্র। ২০০১-২০২৫ সালের তথ্য নিয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ১টিসহ স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ২১টি বাঘের।
আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে সুন্দরবনে ৬৫৭টি ক্যামেরা ফাঁদের মাধ্যমে ১২৫টি বাঘের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়। এরপর থেকে আর কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জে ১০ জুলাই একটি বাঘিনীকে সুস্থ করার পর ছাড়া হয়। এ সময় বাঘিনীটির গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তায় ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। যদিও আগে বাংলাদেশ ও ভারতে যৌথভাবে যখন গবেষণা হতো, তখনকার চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। ১৮৮১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাঘের কবলে পড়ে ৩ হাজার ৬১৫ জন মারা গেছে এবং মানুষের হাতে মারা গেছে ১ হাজার ২৫৯টি বাঘ। ২০২১- ২০২৩ সাল পর্যন্ত মানুষের আক্রমণে ৪টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে পূর্ব বন বিভাগ (বাগেরহাট) ২টি, ২০২২ সালে ১টি এবং ২০২৩ সালে পশ্চিম বন বিভাগ (খুলনা) ১টি। এছাড়া এ সময়কালে বাঘের আক্রমণে ৫ জন নিহত হন। এর মধ্যে পশ্চিম বন বিভাগে ২০২১ সালেই ৪ এবং ২০২৩ সালে পূর্ব বন বিভাগে ১ জন ছিল। সেই তুলনায় এখন বাঘের মৃত্যু এবং বাঘের দ্বারা মানুষের মৃত্যু ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে শূন্যের কোটায় রয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ডিএফও নির্মল কুমার রায় যুগান্তরকে জানান, ইদানিং পর্যটকরা বাঘ দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন অফিসের ক্যামেরাতে ভিন্ন ভিন্ন বাঘের ছবি মিলছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এতে বোঝা যায়, বাঘ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বনে এখন বাঘের পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে। বাঘ নিজেকে নিরাপদ মনে করার কারণে তার বিচরণ বাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাঘ শিকারি নেই বললেই চলে। হরিণ শিকারির ফাঁদে অনেক সময় বাঘ আটকা পড়ে। তবে এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত অভিযান করে যাচ্ছি।

