Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক

পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি

জুলাই জাতীয় সনদকে ভিত্তি ধরে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করা ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ অংশীজনের মতামত নেবে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। জুলাই জাতীয় সনদ তৈরিতে যারা কাজ করেছেন মতামত নেওয়া হবে তাদের কাছ থেকেও। সর্বোপরি কমিটি সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে চায়। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনিসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

প্রথম বৈঠকে কমিটির কাজের পদ্ধতি এবং কাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে সে বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া ছাড়াও সাংবাদিক, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন কমিটির সদস্যরা।

পরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটি শুধু নিজেদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করবে না। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা সংশোধনী প্রস্তাবও রাখার চেষ্টা করবে। যেহেতু আমরা উদার এবং ওপেন তাই আমরা সবার কথা শুনব। যা যা সংশোধনের প্রয়োজন সেসব সংশোধনী আমরা ধারণ করে সেভাবে আমরা রিপোর্ট প্রণয়ন করব। জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়ে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন বলেন, এত বড় ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হলো। জাতির প্রত্যাশা অনেক। শহীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল। সেই প্রত্যাশা এবং আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আমাদের এই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংবিধানে রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হবে সংশোধনী তৈরির মূল ভিত্তি। যেসব প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো সংশোধনীতে নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে বিএনপির লিখিত ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো ভিন্নমত হিসাবেই বিবেচনায় রাখা হবে।

রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো সংশোধনী প্রস্তাবে রাখা হবে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের এই নবযাত্রা এবং রাষ্ট্রকাঠামোর যে আমরা বিবর্তনমূলক কাজে যাচ্ছি এবং রাষ্ট্রকাঠামোর যে গণতান্ত্রিক সংস্কার আমরা করতে চাই, সেগুলো আমরা এখানে অ্যাড্রেস করব, ধারণ করব, যেটা আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি এখনো আছে।

বিরোধী দল কমিটিতে কারও নাম দেয়নি, এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি নাম দেওয়ার কথা ছিল, সেই নামগুলো আমরা এখনো পাইনি। আমি আশা করি তারা হয়তো অনুধাবন করবেন, একপর্যায়ে তারা হয়তো তাদের নাম দেবেন। আমরা তাদের সঙ্গেও আলোচনা করব।

সংবিধান সংশোধনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, শুধু জুলাই সনদের নির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো আলাদাভাবে দেখলে হবে না। একটি সংশোধনের কারণে সংবিধানের অন্য কোনো অনুচ্ছেদে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। তাই সংবিধানের পুরোটা পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। কারণ হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন রাখতে হবে। একটার সঙ্গে আরেকটা গাঁথুনি রাখতে হবে। ‘হারমোনিয়াস ইন্টারপ্রিটেশন’ বলতে একটি দলিলের সব অংশ মিলিয়ে ব্যাখ্যা করাকে বোঝায়। এতে একটি বিধানের সঙ্গে অন্য বিধানের বিরোধ এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্বও বিবেচনায় রাখতে হবে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা গেলেও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করা যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের কেশবানন্দ ভারতী মামলা এবং বাংলাদেশের অষ্টম সংশোধনী মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের মতাদর্শ বা ইচ্ছা জুলাই সনদ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে চাপিয়ে দিতে পারবে না। কোনো প্রস্তাব জুলাই সনদ বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বাইরে গেলে কমিটি সেই পথে যাবে না। কোনো বিষয়ে একটি দলের ভিন্নমত থাকলে কোন প্রস্তাব কার্যকর হবে, তার ব্যাখ্যাও জুলাই সনদে দেওয়া আছে। সনদের মূল প্রস্তাব, দলগুলোর সম্মতি এবং নোট অব ডিসেন্ট মিলিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা তৈরি করা হবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এ সংবিধান সংশোধন শুধু বর্তমান সরকার বা সংসদের মেয়াদের জন্য করা হচ্ছে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন আমরা এক বছর বা দুবছরের জন্য করছি না, আগামী প্রজন্মের বিষয়টিও মাথায় রেখে কাজ শুরু করেছি। জনগণের চাহিদা ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে সংবিধান সংশোধন করতে হবে-এমন মন্তব্য করে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধানের জটিল বিষয়গুলো বুঝে মতামত দিতে তাদের সময় লাগতে পারে। বিরোধী দলের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে জানিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, যখনই তারা নাম দেবেন, তখনই তাদের মতামত নিয়ে আমরা এই কাজটা করব।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং চিফ হুইপ ছাড়াও কমিটি সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল অংশ নেন। তবে কমিটির সদস্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলি উল্লাহ অনুপস্থিত ছিলেন। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম