Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে

কমছে ঋণের সুদহার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কমছে ঋণের সুদহার

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার কমাতে বহুপাক্ষিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে মুদ্রা বাজারের বিভিন্ন উপকরণের সুদের হার কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের ঋণ নেওয়ার উপকরণ ট্রেজারি বিল, এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে ধার করার বাজার কলমানি মার্কেট, ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ঋণ চুক্তি করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত ভিত্তি সুদ হার কিছুটা কমেছে। বৈদেশিক মুদ্রায় রপ্তানি খাতে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার বেঁধে দেওয়ায় এ খাতের সুদ কমছে। উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে সহজ শর্তে ও কম সুদের ঋণের জোগান দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে একাধিক বিশেষ তহবিল গঠন করায় সুদের হার কমাতে এটিও একটি বার্তা দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাই ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদের হার ছিল ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদ হার ছিল ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদের হার ছিল ১০ দশমিক ০৯ শতাংশ। এদিন ট্রেজারি বিলের নিলামে ২২ হাজার কোটি টাকা জমা পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিল। বাকি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।

এর এক সপ্তাহ পর গত ৩ আগস্ট ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদের হার কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে। ১৮২ দিন মেয়াদি বিলের সুদ হার কমে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশে; ৩৬৪ দিন মেয়াদি বিলের সুদ হার কমে ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশে দাঁড়ায়। এদিন ট্রেজারি বিলের নিলামে ৩০ হাজার কোটি টাকা জমা পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রহণ করে ৭ হাজার ১৪৭ কোটি টাকার বিল। বাকি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। এর আগে সবগুলো ট্রেজারি বিলের সুদের হার ডবল ডিজিটের ঘরে বা ১০ শতাংশের ওপরে ছিল।

ব্যাংকগুলোতে তারল্য অতিরিক্ত বাড়ায় ও ঋণ বিতরণের সুযোগ কম থাকায় তারা এখন ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। যে কারণে ট্রেজারি বিল কেনার প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এতে সুদের হারও কমে এসেছে। গত বছরের জুনে ব্যাংকগুলোতে তারল্য ছিল ৫ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। গত মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকাই অলস পড়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধান ৪ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে। মে মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে হলে ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার কমাতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমবে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ঋণের সুদ হার ১ থেকে দেড় শতাংশ কমতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে। এসব পদক্ষেপের ফলে কলমানি মার্কেটের সুদের হারও কমে এসেছে। আগে এখানে সর্বোচ্চ সুদ হার ছিল ১৩ শতাংশ। গড় হার ১০ শতাংশের ওপরে। এখন কলমানিতে সর্বোচ্চ সুদ হার ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। গড় সুদের হার কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ শতাংশের মধ্যে।

ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে বা গ্রাহকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি করার সময় ভিত্তি সুদের হারও বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এ খাতেও সুদের হার কমে এসেছে। আগে এখানে গড় সুদের হার ছিল সাড়ে ১০ শতাংশের ওপরে। এখন তা কমে সাড়ে ৯ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। এতে ব্যাংকগুলোর ধার করার খরচ কমছে। ফলে তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও কমতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হারও কমছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলোতে ঋণের গড় সুদের হার ছিল ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত জুনে তা ১১ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমানতের গড় সুদের হারও কমছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .