Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

নাসার মহাকাশ অভিযানে বাংলাদেশি লামীয়া

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নাসার মহাকাশ অভিযানে বাংলাদেশি লামীয়া

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে নতুন অভিযানে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধানে উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। নাসার এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া আশরাফ মওলা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলেসলি কলেজের হুইটিন অবজারভেটরিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত লামীয়া আশরাফ মওলা এর আগে ২০২১ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের গবেষণা দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এবার নাসার নতুন প্রজন্মের রোমান স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানীদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যাস ও ধুলিকণাসহ দৃশ্যমান বস্তু মহাবিশ্বের মোট ভরের-শক্তির মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এগুলোর প্রকৃত স্বরূপ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি অজানা। মহাবিশ্ব কীভাবে তৈরি হয়েছে, কীভাবে এর সম্প্রসারণ ঘটছে এবং ভবিষ্যতে এর গতিপথ কী হতে পারে-এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রোমান টেলিস্কোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় রোমান টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র হবে অনেক বিস্তৃত। এর মাধ্যমে একই সময়ে মহাকাশের বিশাল অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মহাবিশ্বের গঠন ও সম্প্রসারণ নিয়ে গবেষণায় বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করবে এটি।

রোমান টেলিস্কোপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান করা। মহাকর্ষীয় মাইক্রোলেন্সিংসহ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা এমন গ্রহ শনাক্ত করা হবে, যেগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

লামীয়া আশরাফ মওলার বলেন, রোমান স্পেস টেলিস্কোপ শুধু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির রহস্য অনুসন্ধানেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মহাবিশ্বে কত ধরনের গ্রহ রয়েছে এবং কীভাবে এসব গ্রহের সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটেছে, সে সম্পর্কেও নতুন তথ্য দেবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি মনে করেন, মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ, গবেষণা অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ থেকেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব দিতে পারবেন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নির্মাণ ও পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য টেলিস্কোপটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ ও কার্যক্রম শুরু করতে পারলে মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং বহির্গ্রহ অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .