Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

চালক-মালিকদের বিরুদ্ধে হবে অটো-মামলা

মহাসড়কে অপরাধের লাগাম টানতে চায় পুলিশ

মামলা নিষ্পত্তি না হলে বন্ধ থাকবে ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন নবায়ন * চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে গত এক মাসে ২ অতিরিক্ত ডিআইজি, ২ এসপি ও ৫১ পুলিশ পরিদর্শককে সরানো হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মহাসড়কে অপরাধের লাগাম টানতে চায় পুলিশ

দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবার বিশেষ নজর দিতে চায় হাইওয়ে পুলিশ। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অবৈধ যানবাহনমুক্ত করাসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সারা দেশে জারি করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জোরদার করা হয়েছে দৃশ্যমান টহল। বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত নজরদারি। গত মাসে গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, বাড়তি তৎপরতা, সতর্কতা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হাইওয়েতে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলেই গাড়ির চালক এমনকি মালিকদের বিরুদ্ধে হয়ে যাবে অটো-মামলা।

১৮ আগস্ট থেকে এই সিস্টেম চালু হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, মহাসড়কে পুলিশি অবস্থান স্পষ্ট করতে বিশেষ অ্যালার্ট বিকন লাইট বসানো হচ্ছে। আগেই তৈরি করা জরুরি সেবার অ্যাপ ‘হ্যালো এইচপি’ আরও সহজ করা হচ্ছে। যাতে ভুক্তভোগী এক ক্লিকেই কাছের পুলিশ টহল টিমের সাহায্য পেতে পারেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এলাকায় বসানো হয়েছে নম্বর প্লেট স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই সিসিটিভি ক্যামেরা। গতিসীমা লঙ্ঘন, উলটো পথে গাড়ি চালানো বা লেন ভঙ্গ করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির লাইসেন্স প্লেট স্ক্যান করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করবে। ক্যামেরা সরাসরি বিআরটিএ ডেটাবেজ সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে গাড়ির মালিক ও চালককে তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করে মোবাইলে ই-মামলা ও জরিমানার বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জরিমানা না দিলে বা মামলা নিষ্পত্তি না হলে বিআরটিএ থেকে সংশ্লিষ্ট গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ব্লক থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রযুক্তির উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানা যায়।

চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে গত এক মাসে ২ অতিরিক্ত ডিআইজি, ২ এসপি ও ৫১ পুলিশ পরিদর্শককে হাইওয়ে পুলিশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ফারুক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে-সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া মহাসড়কে কোনো গাড়ি থামানো যাবে না। অকারণে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়া বা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মহাসড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অহেতুক মামলা দিয়ে হয়রানি ও টাকা দাবি করার সংস্কৃতিও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তায় বা মহাসড়কে মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে চাঁদা তোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে এখন সমিতির চাঁদা নেওয়া হচ্ছে টার্মিনাল থেকে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কের রানিং কোনো পয়েন্টে মালিক বা শ্রমিক সমিতির নামে কোনো চাঁদা তোলা যাবে না। চাঁদাবাজি বা সমিতির কল্যাণ তহবিলের নামে টাকা উঠাতে হলে তা কেবল টার্মিনালের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সমিতির প্রতিনিধি এবং আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে গত এক মাসে মহাসড়কে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যেখানে হাইওয়ে পুলিশের সাহায্য পাওয়া যাবে, সেসব পয়েন্টে রাতে বিশেষ বিকন লাইট জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং প্রশাসনিক জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের মহাসড়কগুলোকে সম্পূর্ণ চাঁদাবাজমুক্ত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে ফারুক আহমেদ জানান।

মহাসড়কের যানজট নিরসনে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে-এ বিষয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, যানজট কমানোর জন্য হাইওয়ে পুলিশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। কুমিল্লা ও নিমসার বাজারের মতো যেসব জায়গায় পানি জমার কারণে বা রাস্তার ত্রুটির জন্য যানজট হয়, সেখানে আরসিসি ঢালাই বা স্থায়ী সলিউশনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলমান কাজের কারণে তৈরি হওয়া সংকীর্ণ মোড়গুলো বড় করা এবং সহনীয় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। নিমসার বাজারের মতো মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা বড় হাট-বাজারগুলো কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া বা প্রসারণের জন্য স্থানীয় ডিসি, ইউএনও এবং এলজিইডি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা চলছে।

এদিকে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, নিমসার বাজার, কিংবা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানজটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিমসার বাজারের মতো বড় বাজারগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নতুন স্থানে স্থানান্তরের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম