উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
অবসরের অর্থ পেলেন ৭০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘ চার বছর পর বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধার জমানো অর্থের একটি অংশ পেয়েছেন। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ‘আইবাস++’ পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধে সরকার এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা বকেয়ার জট কাটাতে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ধরনের ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে ব্যাংক হিসাবে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমানো অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এ অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে।
শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরও কয়েকটি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, আগে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজেদের অধিকার হিসাবে প্রাপ্য অর্থ পেতেও ঘুস দিতে বাধ্য হতেন। পুরো বিষয়টি দলীয়করণ করা হয়েছিল। বেছে বেছে মানুষকে সুবিধা দেওয়া হতো এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মানুষকে বছরের পর বছর বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের পথ দেখিয়েছেন, সেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাশেও নির্বাচিত সরকার সব সময় থাকবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা।
