Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

শিবচরে নারীর লাশ : গ্রেফতার ১

ধর্ষণের পর মাকে হত্যা শিশুকে মেরে নদীতে

স্বামী কারাগারে থাকার সুযোগ নেয় আসামি ফারুক

Icon

শিবচর ও টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণের পর মাকে হত্যা শিশুকে মেরে নদীতে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় নারীর লাশ উদ্ধার ও তার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে পুলিশ আসামি ফারুক মোল্লাকে রাজৈর থেকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় খুনের আলামতও জব্দ করা হয়। ফারুক উপজেলার বাখরেরকান্দি এলাকার রতন মোল্লার ছেলে। নিহত নারীর নাম শম্পা খাতুন (২০)। একই সময়ে তার ১ বছর বয়সি ছেলে আবির নিখোঁজ ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক শম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাছাড়া শম্পার শিশুপুত্র আবিরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আড়িয়ালখাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। শিশুর লাশ উদ্ধারে নদীতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে তীব্র স্রোতে শুক্রবার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলাসংক্রান্ত ঘটনায় শম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালতে ফারুকের সঙ্গে তার (শম্পা) পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। বুধবার ফারুক নিজের বাসা শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ শেষে শম্পাকে হত্যা করে এবং লাশ পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখে। শম্পার শিশু ছেলে আবিরকেও হত্যা করার পরিকল্পনা করে সে। পরে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে ওই সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

বুধবার বাখরেরকান্দিতে ঝোপের পাশ থেকে শম্পার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় পরদিন মামলা করেন শম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম। মেয়ের লাশের খবর পেয়ে তিনি নাটোরের লালপুর থেকে শিবচর থানায় উপস্থিত হন।

ছামরুল ইসলাম জানান, তিন বছর আগে তার বড় মেয়ে শাম্পা খাতুনের বিয়ে হয় মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে। তাদের সংসারে ১ বছর বয়সি ছেলে আবির।

মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালায়। অবশেষে শুক্রবার ভোরে রাজৈর উপজেলা থেকে আসামি ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। পরে শিবচরে তার বাসা তল্লাশি করে শাম্পা খাতুনের স্বর্ণের নাকফুল ও রুপার চেইন জব্দ করা হয়। তাছাড়া চুলায় পোড়ানো অবস্থায় শম্পার ওড়না ও এক জোড়া জুতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে ফারুককে শিবচর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শম্পা হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .