বৈষম্যবিরোধী নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধ * সিফাত বাহিনীর প্রধানসহ গ্রেফতার ১১
বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জেরে তার রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলা তুলে না নেওয়ায় এ হত্যা। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত বুলবুল ২২ নম্বর ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সকাল ১০টায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় উভয়পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বেলা পৌনে ১১টায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরে জুমার নামাজের কিছু আগে বন্দর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তারা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি মো. নুর হোসেন বলেন, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার ভোরে বন্দরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাত ছাড়া ওই বাহিনীর আটজনকে গ্রেফতার করেছে। সিফাত ২১ নম্বর ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে। অন্য গ্রেফতারকৃতরা হলেন বন্দরের বারপাড়া এলাকার মাহফুজ, নবীগঞ্জ কদমরসুল ফকিরবাড়ি এলাকার জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান, বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার রিয়াদ, কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকার সিয়াম, বন্দর চিতাশাল এলাকার ইরফান, সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মিনারা, একই এলাকার মাসুদের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম। এ ছাড়া পরে ইয়াসমিন ও জিসান নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় বুলবুলের মালিকানাধীন রিকশা গ্যারেজে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় ১৮টি রিকশা লুট করা হয় বলে তার বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন জানান। এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন সিফাত।
বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বুলবুলকে ফের মামলা তুলে নিতে চাপ দেন সিফাত বাহিনীর সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের বড় ভাই জুবাইদ আল আমিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
এ হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সড়কে নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, পূর্বশত্রুতা ও মামলা করার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মানসহ সিফাত বাহিনীর ৯ সদস্যসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
