Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

পুলিশের সঙ্গে মোবারকের কথোপকথন ভাইরাল

স্যার ‘কসম’ কাটেন আমাকে কিছু করবেন না

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্যার ‘কসম’ কাটেন আমাকে কিছু করবেন না

কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে পরিচিত মোবারক হোসেন। সংগৃহীত ছবি

ধরা দেওয়ার আগে পুলিশকে ‘কসম’ করিয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে পরিচিত মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সে বারবার পুলিশকে ‘কসম’ করতে বললে পুলিশও একপর্যায় ‘খোদার কসম’ বলে নিশ্চয়তা দেয়। এরপর সে ঘরের ফলস ছাদ থেকে নেমে আসে। এর আগে নিজের হাতে থাকা অস্ত্রটি ঘরের একজন বয়স্ক ব্যক্তির কাছে বুঝিয়ে দেয় সে। পরে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ অস্ত্রটি জব্দ করে।

প্রসঙ্গত, কালা মোবারককে ধরতে বুধবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মোবারক বাড়ির ওয়াশরুমের ফলস ছাদ থেকে পুলিশের ওপর পরপর ছয় রাউন্ড গুলি চালায়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। তবে একপর্যায়ে মোবারকের গুলি আটকে যায়, তখনই পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলে। এ সময় ‘কসম’ কাটার শর্ত দেয় মোবারক। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের এক সদস্য মোবারকের উদ্দেশে বলছেন, ‘জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। আমরা খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য এসেছি।’ জবাবে মোবারক বলে, ‘অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য আবার বলেন, ‘মোবারক, তোর ভালোর জন্য আসছি। তুই সারেন্ডার কর। তোর বাঁচার সুযোগ নেই। তোকে আমরা বাঁচানোর জন্য এসেছি। তুই অস্ত্র ফেল, সময় নষ্ট করিস না। বের হওয়ার এখান থেকে আর কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ বর্তমানে কাউকে মারে না।’

জবাবে মোবারক বলে, ‘অস্ত্র ফেলব না।’ তখন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের একজন বলেন, ‘অস্ত্র দিলে কেউ মারবে না তোকে। কেন মারব? আমি ওসি বলছি, অস্ত্রটা দিয়ে দে।’ মোবারক তখন পুলিশকে সরে যেতে বলে।

জবাবে পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘না, যাব না। মোবারক, অস্ত্রটা দে। অস্ত্রটা ফেল। নিচে নাম, আগে নিচে নাম।’ একপর্যায়ে মোবারক বলেন, ‘আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ পুলিশ সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না। এই মুরব্বির (ঘরে থাকা বৃদ্ধ) কাছে অস্ত্র দে, চিন্তা থাকবে না। মুরব্বির কাছে অস্ত্রটা দে।’

পুলিশ সদস্যদের একজন তখন বলেন, ‘আমাদের কাছে কিন্তু চায়না রাইফেল, এসএমজি-সবকিছুই আছে। মোবারক, ইমন (ডেভিড ইমন) গ্রেফতার হয়েছে। ইমনের চেয়ে তুই বড় সন্ত্রাসী না।’ জবাবে মোবারক বলে, ‘স্যার একটা অনুরোধ...আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।’ তখন এক পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘কসম করলাম তো। খোদার কসম, কিছু করব না। কিছু করব না। অস্ত্র ফেলে দে। খোদার কসম, কিছু করব না আমরা। তোর কিচ্ছু হবে না।’

জবাবে মোবারককে বলতে শোনা যায়, ‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।’ এরপর পুলিশের ওই সদস্য ঘরে থাকা বৃদ্ধকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মুরব্বি, অস্ত্রটা নিয়ে আসেন।’

অভিযানকালে মোবারকের সঙ্গে তার তিন সহযোগী মো. রায়হান, মো. ফরিদ ও মো. নছির গ্রেফতার হয়। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মোবারক বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। সে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী, সরোয়ার বাবলাসহ বেশ কয়েকটি খুনের সঙ্গে জড়িত। মোবারক গত ২৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম