মো. আসাদুজ্জামানের শুধু মাধবীর জন্য
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্প্রতি অন্যপ্রকাশ থেকে ‘শুধু মাধবীর জন্য’ নামে প্রকাশিত গ্রন্থটির লেখক বর্তমান আইনমন্ত্রী ও দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তিন বছরেরও অধিককাল ধরে গ্রন্থটি লিখেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সুবাদে আমি তার অনেক লেখাই পড়েছি এবং মন্তব্য করেছি।
আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ গ্রন্থটি মূলত একধরনের দীর্ঘ চিঠি-উপন্যাস (Epistolary form), যেখানে প্রেম, বিরহ, রাজনীতি, ব্যক্তিগত ক্ষত আর সময়ের বাস্তবতা একসঙ্গে মিশে গেছে। পুরো গ্রন্থটি যেন একজন মানুষের হৃদয়ের গভীরের অন্তর্গত কথোপকথন, যার প্রাপক মাধবী; কিন্তু আসলে তা পাঠকের কাছেও সমানভাবে পৌঁছে যায়। লেখকের ভাষা কাব্যিক, আবেগঘন ও মাধুর্যময়। তিনি রূপক, উপমা ও নানা তাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক রেফারেন্স (সুনীল, রুমি, নাজিম হিকমত, মান্না দে, নিরুদা ইত্যাদি) ব্যবহার করে পাঠকের অনুভূতিকে একধরনের উচ্চমাত্রার নাটকীয়তার দিকে নিয়ে গেছেন। এটি একই সঙ্গে মনোমুগ্ধকর ও চিত্তাকর্ষক।
লেখায় যেমন লেখকের প্রেম, ভালোবাসা প্রাপ্তির প্রতি দুর্বার আকুতির সঙ্গে সঙ্গে সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে, ঠিক তেমনই আমরা দেখি মেমসাহেব মূলত প্রেমের উপন্যাস হলেও এখানে রয়েছে দেশবিভাগের কথা, এক রিপোর্টারের অজানা জীবনকথা। সাতচল্লিশের দেশবিভাগপ-রবর্তী সময়ে কলকাতা শহরের লাখ লাখ বেকারের মাঝে কী করে একজন হাফ বেকার, হাফ রিপোর্টার শুধু মনের জোর আর নিষ্ঠায় ভালোবাসার শক্তিকে অবলম্বন করে কীভাবে সর্বোত্তম পদে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে, এটি সেই গল্প। উপন্যাসটির শুরু হয়েছে দোলা বউদিকে লেখা চিঠির মাধ্যমে। পুরো উপন্যাসই চিঠির মতো করে লেখা। মূল চরিত্র দুজন। একজন মেমসাহেব অপরজন এ উপন্যাসের নায়ক বাচ্চু। নিজের অনাড়ম্বর জীবনের কথাগল্প শোনাতেই একদিন বাচ্চু চিঠি লিখতে শুরু করে দোলা বউদিকে। পাঠকের চোখেকে গভীর সমুদ্রের ঢেউ দিয়ে ভিজিয়ে সুনিপুণভাবে লেখক তুলে আনেন মেমসাহেব চরিত্রটিকে। আসাদুজ্জামান অবশ্য তার চিঠিগুলো লিখেছেন তার প্রেয়সী মাধবীকে উদ্দেশ করে। ‘মেম সাহেব’ উপন্যাসে প্রেরকেরও একটি পরিচয় আছে। এ উপন্যাসের নায়কের নাম বাচ্চু কিন্তু আসাদুজ্জামানের লেখাগুলোয় প্রেরকের নাম অনুপস্থিত। গ্রন্থটিতে প্রেম-ভালোবাসার প্রতি রয়েছে গভীর আকুতি। তিনি মাধবীকে উদ্দেশ করে লিখছেন-কতবার তোমাকে বলেছি, তুমি আমার অধরে রাখা কণ্ঠলগ্ন প্রেম, তুমি আমার কল্পনার সাত রঙে রাঙিয়ে দেওয়া অন্য আবির মাখানো মাধবী, কখনো তুমি ‘কালবেলা-কালপুরুষ’-এ অঙ্কিত সমরেশ মজুমদারের অমর সৃষ্টি অনিমেষের মাধবীর চেয়েও প্রেয়সী, কখনো ‘সাতকাহন’-এর দীপাবলির চেয়েও বিদ্রোহী! তোমার তুমিতে আমি প্রণত, তোমার তুমিতেই আমি মুগ্ধ! এরপরও তুমি আমাকে ভালোবাসোনি, সে অর্থে কখনো ফিরেও তাকাওনি আমার দিকে। কখনো মন চাইলে তাকিয়ে দেখ, দেখবে হেলাল হাফিজের মতো আমিও বলছি, ‘তাকানোর মতো করে তাকালেই চিনবে আমাকে’ কিংবা আবার লিখছেন-সবাই জেনে গেছে তুমি আমার কল্পনার অনন্ত যৌবনা মাধবী, আমার কণ্ঠলগ্ন প্রেমের দেবী, আমার অহল্যা উর্বশী মাধু! আজ আমার জন্মদিন, তোমার এবং তোমার পাঠকদের শুভেচ্ছার সাগরে ভাসছি, তোমার অনন্ত পিপাসার কাছে সমর্পণ করে পাহাড় পাহাড়ে, টিলায় টিলায় হাঁটছি! এরপরও তুমি অদৃশ্য, অধরা হয়ে রয়ে যাও আমার পিপাসার কাছে!
গ্রন্থটির এক স্থানে তিনি লিখেছেন-অনন্য শরৎ প্রভাত, তুমিহীন শূন্যতায় ছেয়ে আছে বিস্তীর্ণ বিরান ভূমিসম হৃদয় আমার চারদিকে ধু-ধু প্রান্তরে তাকালে দেখতে পাচ্ছি থোকা থোকা কষ্টের রক্তজবা, তোমার স্মৃতিরা পিথাগোরাসের গাণিতিক সূত্রকে উপেক্ষা করে ভিড় জমালেও তুমি নেই, শুধু স্মৃতির অ্যালবাম, এ কেমন শূন্যতা বলো? এ কেমন রয়ে যাওয়া তোমার?
এ ধরনের আরও বহু দৃষ্টান্ত এখানে তুলে দেওয়া যেত। সে যাহোক, প্রেমের প্রতি লেখকের বিলাপ দেখে আমার রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত কবি দান্তের কথা মনে পড়ে গেল। লেখক আসাদুজ্জামান নিজেও একজন ভয়াবহ রকমের তন্নিষ্ঠ পাঠক। ‘শুধু মাধবীর জন্য’ বইটি পাঠ করলে পাঠক সেটা খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, লেখক আসাদুজ্জামান নিশ্চয়ই দান্তে পড়েছেন। দান্তে খুব অল্প বয়সে তার প্রেমাস্পদ বেয়াত্রিচকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। দান্তে তাকে জীবনে শুধু দুবার দেখেছিলেন। একবার অল্প বয়সে, দ্বিতীয়বার জীবনের একেবারে সায়াহ্নে এসে। দান্তে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন বেয়াত্রিচকে। যার প্রভাব দান্তের সব জীবনকে ঘিরে রেখেছিল। বেয়াত্রিচের দূরত্ব ও মৃত্যুর পর দান্তে এক গভীর কষ্ট ও শোক অনুভব করেন, যা তার প্রেমকে আরও গভীর ও আত্মিক করে তুলেছিল। দান্তের জীবনে বেয়াত্রিচ আর শুধু প্রিয়তমা হিসাবে থাকেননি। তিনি হয়ে উঠেছিলেন দান্তের দিব্য পথপ্রদর্শক। দান্তে বেয়াত্রিচকে উদ্দেশ্য করে পুরোদস্তুর একটি মহাকাব্য রচনা করেছিলেন নাম ‘লা ভিটা নোভা’ নতুন জীবন। এ মহাকাব্যটি শুধু প্রেমের গল্প নয় বরং প্রেমকে কেন্দ্র করে একধরনের আত্মিক জাগরণ ও রূপান্তরের কাহিনি। আসাদুজ্জামানের বইখানা পড়ে বুঝলাম দান্তের বিয়াত্রিচের মতো মাধবীও যেন আসাদুজ্জামানের মধ্যে একধরনের আত্মিক জাগরণ ও রূপান্তর ঘটিয়েছেন। আসাদুজ্জামানের লেখার আশ্চর্য দিক হচ্ছে তার কিছু কিছু লেখা অতিসাধারণ লাইন দিয়ে শুরু হলেও এর দুর্বার ও অমোঘ এক আকর্ষণ শক্তি আছে, যা পাঠককে নিয়ে যায় এক পৃষ্ঠা থেকে পরবর্তী পৃষ্ঠায়।
এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে, পৃথিবীবিখ্যাত অনেক উপন্যাস আছে যেগুলোর প্রথম লাইনও খুব সাধারণ; কিন্তু পাঠককে দুর্বার গতিতে টেনে নেয় এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায়। এমনই একটি উপন্যাস হচ্ছে হারম্যান মেনভিলের ‘মবি ভিক’। উপন্যাসের প্রথম লাইন-Call me Ishmael; অর্থাৎ আমাকে ইসমাইল বলে ডাকতে পার। কিংবা টলকিনের উপন্যাস, দ্য হবিট (The Hobbit) এর প্রথম লাইন-Is a hole in the ground there lived a hobbit; যার অর্থ-মাটির ভেতরে বাস করত এক হবিট। অথবা লেখক আসাদুজ্জামানের একজন প্রিয় ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের-এ টেল অব টু সিটিজ এর প্রথম লাইন-It was the best of times, it was the worst of times. অর্থাৎ সেটি ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সময় আবার সেটিই ছিল ইতিহাসের নিকৃষ্ট সময়। পাঠক লক্ষ করুন-উপন্যাসগুলোর প্রথম লাইনগুলোয় দেখা যায় খুব সাধারণ কথা, খুবই সাধারণ ভঙ্গি কিন্তু মনে হয় যেন কেউ সরাসরি গল্প বলতে বসেছে। লেখক আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ গ্রন্থটিতে আমরা সেই বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। মাধবীর প্রতি লেখকের প্রেমের আকুতির পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় একই সঙ্গে লেখক বলতেন মাধবীকে। যেমন এক জায়গায় লেখক মাধবীকে উদ্দেশ করে বলছেন, এটা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি। তার অর্থনৈতিক সততা প্রশ্নাতীত (জনৈক বিচারপতিকে উদ্দেশ করে), তিনি সজ্জন, তিনি মৃদুভাষী, তিনি বিচক্ষণ, তিনি প্রাজ্ঞ। তার এ বক্তব্য পড়ে কিছু অনুগামী এবং সম্পূরক প্রশ্ন আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, ভাবছি, কাকে প্রশ্ন করব? শেষমেশ তোমাকেই করি। বলো তো, মাধবী, যারা রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো মামলায় ফরমায়েশি আদেশ কিংবা রায় দেয়, তাদের কি ডাকাতের চেয়েও উচ্চতর কারও সঙ্গে তুলনা করা যায়? যেসব বিচারক মন্ত্রণালয়ে তদবির করে ভালো পোস্টিং নেয় এবং তারপর মন্ত্রণালয় কিংবা ঊর্ধ্বতন কারও তদবিরে রায় বা আদেশ দেয়, তাদের কার সঙ্গে তুলনা করা যায়? যেসব বিচারক বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বা Intellectual corruption-এর মাধ্যমে গোটা বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বা করেছে, তাদের কার সঙ্গে তুলনা করা যায়? উত্তর আসবে না, তুমি আসবেই আমি জানি...।
লেখক আসাদুজ্জামান মাধবীর কাছে কী উত্তর খুঁজছেন? কিছু মানুষ কি নিজেকে নৈতিকতার ঊর্ধ্বে ভাবে? আসাদুজ্জামান কি দস্তয়েভস্কির ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ পড়েছেন? পড়েছেন নিশ্চয়ই। তার পঠন-পাঠনের যে ব্যাপ্তি! এ উপন্যাসটি লেখক পড়ে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক। এ উপন্যাসের নায়ক রাসকলনিকভ একটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে। এখানে দেখানো হয়েছে-আইনের শাস্তির চেয়েও বিবেকের দংশন অনেক বেশি কঠিন। রাসকলনিকভ মনে করে, কিছু ‘মহান’ মানুষ সাধারণ নৈতিকতার ঊর্ধ্বে। কিন্তু তার এ তত্ত্ব একসময় ভেঙে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, উদ্দেশ্য ভালো হলে কি অপরাধ ন্যায্য হতে পারে? সোনিয়ার প্রভাব এবং নিজের অনুশোচনার মাধ্যমে রাসকলনিকভ শেষ পর্যন্ত স্বীকারোক্তি দেয়। এখানে দেখানো হয়েছে-দুঃখভোগ ও স্বীকারোক্তির মধ্যদিয়ে মুক্তি সম্ভব।
লেখক আসাদুজ্জামান আইনমন্ত্রী হওয়ার আগে ছিলেন রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। ভীষণ ব্যস্তবাগীশ একজন মানুষ তিনি। আশ্চর্যান্বিত হই-এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কী করে এত লেখালেখি করেন! এর উত্তর অবশ্য তিনি নিজেই কিছুটা দিয়েছেন। তিনি নাকি তার বেশির ভাগ লেখাই ট্রাফিক জ্যামে বসে লিখেছেন কিংবা দেশবিদেশ ভ্রমণ করার সময় এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসে। সেটা তিনি অবশ্য তার প্রেয়সী মাধবীকেও জানাতে ভুলেননি। তিনি লিখেছেন-আমার কল্পনার সাত রঙের মাধুরীতে এখনো তোমার সঙ্গে খুনসুটি করি, ট্রাফিক জ্যামে বসে তোমার সঙ্গে ইফতার আমার আরাধ্য অমৃত।
পাঠকদের মধ্যে যারা আরব্য রজনী পড়েছেন এবং ভালো লেগেছে, ‘শুধু মাধবীর জন্য’ গ্রন্থটিতে তারা প্রায় সেরকম স্বাদ পাবেন। আরব্য রজনীতে রাজা শাহরিয়ার প্রতিদিন একজন করে নারী বিয়ে করেন আর পরদিন তাকে হত্যা করেন। শেহেরজাদ নামে এক বুদ্ধিমতী নারী নিজেকে বাঁচাতে প্রতিরাতে রাজাকে এক নতুন গল্প শোনাতেন। কিন্তু গল্প অসমাপ্ত রেখে দিতেন যাতে রাজা পরের রাতের জন্য তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। ঠিক তেমনি এভাবে ১০০১ রাত ধরে গল্প চলতে থাকে। আসাদুজ্জামান মাধবীকে উদ্দেশ করে লেখা প্রতিটি চিঠি যেন নতুন একেকটি অধ্যায়, নতুন কিছুর অবতারণা। সেই সঙ্গে আসাদুজ্জামানের গ্রন্থটি পড়তে গিয়ে আপনার মনে হবে শিশুদের খেলনা ক্যালাইডোস্কোপের মতো যেন একটি দৃশ্যের পর আরেকটি দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন।
অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ বইটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি, বিপ্লব, ছাত্র আন্দোলন-এসব বিষয় হঠাৎ করেই ব্যক্তিগত প্রেমের বয়ানে ঢুকে পড়ে। এতে একদিকে লেখার পরিসর বড় হয়, অন্যদিকে পাঠকের কৌতূহল ও জানার আকাঙ্ক্ষা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। মনে হয়, লেখক নিজের ব্যক্তিগত বেদনা থেকে বের হয়ে পুরো সমাজকে বিচার করতে চাইছেন, যা শক্তিশালী হলেও সবসময় সমানভাবে সংহত নয়। বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর আবেগের সততা। লেখকের কষ্ট, আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি-সবই খুব খোলামেলা। বিশেষ করে বিরহের বর্ণনা, নিদ্রাহীন রাত, কল্পনায় প্রিয়জনকে খোঁজা-এসব জায়গায় লেখাটি খুব জীবন্ত হয়ে ওঠে। কিছু অংশে সত্যিই কবিতার মতো সৌন্দর্য আছে। তবে দুর্বলতাও কিছু আছে। অনেক পাঠকের কাছে মনে হতে পারে যে, একই ধরনের আবেগ বারবার ভিন্ন শব্দে ফিরে আসে। এছাড়া প্রেয়সীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় লেখকের ভাষা যেন ঈষৎ কঠোর হয়ে যায়, যা শুরুতে যে কোমল প্রেমের আবহ তৈরি হয়েছিল, সেটাকে খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সাংবাদিকরা স্বাতীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন-আপনার স্বামীর জীবনে নীরা নামের নারীটি কে? যাকে নিয়ে এত কবিতা এত লেখালেখি। স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, সুনীলের মতো সৃষ্টিশীল মানুষের জীবনে কি আর নীরা একজন হয়। সুনীলের জীবনে সব নারী মিলেই নীরা। তো আমারও সেই একই প্রশ্ন মাধবী কি লেখকের শুধুই কল্পনা নাকি মাধবী নামে সত্যি সত্যি কেউ আছেন।
শুধু মাধবীর জন্য মো. আসাদুজ্জামান
প্রাকাশক অন্যপ্রকাশ। মূল্য ৮০০ টাকা

