লাকসামে সুরক্ষা সিটি হাসপাতালে নানা অনিয়ম
প্রতিষ্ঠানের হিসাব চাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের হুমকি
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার লাকসামে বেসরকারি সুরক্ষা সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদুজ্জামান ভুট্টোর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ-সদস্যকে স্মারকলিপি দিয়ে এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। এতে সই করেন আবদুল মালেক হিরন, মতিউর রহমান, মাওলানা আবু তাহের, ইমাম উদ্দিন মানিক, আবুল হোসেন পাটোয়ারী, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ। বিষয়টি নিয়ে তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ওই এমডির একজনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের কয়েকজন বলেন, লাকসামের দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় প্রায় ২৮ শতাংশ জমিতে ৯ তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবনে লাকসাম শিল্প পার্ক লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর শেয়ারহোল্ডার ছিলেন প্রায় ৯০০ জন। ২০১৭ সালে এটিকে সুরক্ষা সিটি হাসপাতালে পরিণত করা হয়।
কয়েকজন বিনিয়োগকারী অভিযোগ করেন, এই ১৭ বছরে এমডি আসাদুজ্জামান কোনো হিসাব দেননি। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাকে বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেননি। তাদের দাবি, সুরক্ষা সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। তারা গ্রাহকদের অর্থ ও স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
আব্দুল মালেক হিরন নামে এক বিনিয়োগকারী অভিযোগ করেন, এমডি আসাদুজ্জামান প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিনিয়োগকারীদের অনুমতি বা পরামর্শ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে করেছেন। বিগত বছরগুলোতে কোনো অডিট সম্পন্ন করতে দেননি তিনি। তার কাছে হিসাব চাইলে তিনি হুমকি-ধমকি, অস্ত্র প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার আসাদুজ্জামানের একটি লাইভ পোস্টে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় সাগর হোসাইন নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে এমডি আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কমিটির সদস্য ২০০-এর বেশি। এর মধ্যে ৫৫ জনের অ্যাডহক কমিটি রয়েছে। আব্দুল মালেক হিরনও এর সদস্য হলেন। কয়েক মাসে হিরন প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির পর অফিস সম্মানি ৪৫ হাজার টাকা বন্ধ করায় তিনি পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের মাসের লভ্যাংশ দেওয়া হবে। পরিচালকদের ৫ হাজার ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ২ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিয়মিত বৈঠক না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমডি মোবাইল ফোনে বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরও সুরক্ষা সিটির সাধারণ সভা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সপ্তম তলায় নিয়মিত অফিস করছি। বিনিয়োগকারীদের জামানত ও যে কোনো বিষয়ে জানতে সরাসরি অফিসে এসে প্রশ্ন করতে পারেন। যারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
