Logo
Logo
×

দ্বিতীয় সংস্করণ

২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ বৈঠক

এনসিপি আরও শক্তি ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে

পদত্যাগ করা নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনতে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ

শিপন হাবীব

শিপন হাবীব

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এনসিপি আরও শক্তি ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আরও শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দলটি শীর্ষ নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩০ প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেছে। দলের নির্বাচন-পরবর্তী করণীয়, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং পদত্যাগ করা নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনাসহ নানা বিষয়ে একাধিক বৈঠক করতে যাচ্ছে এনসিপি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ বৈঠকে বসছে দলটি। ওই বৈঠকে সাংগঠনিক আলোচনাসহ বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং আগামীতে কী কী করণীয়-এমন একটি রূপরেখা উঠে আসবে।

এ প্রসঙ্গে শনিবার সন্ধ্যায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, এনসিপি থেকে আমরা ৬ জন সংসদ-সদস্য পেয়েছি। এটা আমাদের শক্তি-সাহস। আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা বৈঠকে বসতে শুরু করেছি। নির্বাচনি ব্যস্ততার পর শুক্রবার সাধারণ সভায় দলের অনেকের সরাসরি সাক্ষাৎ হলো। নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কী কী করণীয় এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মনিরা শারমিন আরও বলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আমরা আবারও গুরুত্বপূর্ণ সভা ডেকেছি। ওই সভায় আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নেব, আগামীতে কী কী করব, কী কী করা উচিত। তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা খুব কম সময়ে মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। মাঠপর্যায়ে গণ-সংযোগ করাসহ নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোট নিয়ে আসতে পেরেছেন। জয়-পরাজয় তো আছেই। এনসিপির নেতাকর্মীরা প্রথমবার নির্বাচন করে খুবই ভালো করেছেন। শুক্রবার বিজয়ী ও সব প্রার্থীদের আমরা একটা সংবর্ধনা দিয়েছি, ওখানে সবাই এসেছিল। সবাইকে সম্মানিত করা হয়েছে, ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

দল থেকে যারা চলে গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মনিরা শারমিন বলেন, যারা চলে গেছেন, তাদের কারও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, একসঙ্গে হেঁটেছি-সংগ্রাম করেছি। আমাদের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সভায় এ বিষয়গুলো উঠে আসবে। আমাদের দরজা খোলা, যারা চলে গেছেন-তাদের কী করে ফিরিয়ে আনা যায় এবং আগামী দিনে দল আরও শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সভায় পুরো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়টিও উঠে আসবে। মূলত আমরা এখন সংগঠনে জোর দিতে চাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি যে সংসদ নির্বাচন হয়ে গেল-সেই নির্বাচনে এনসিপি ৩০টি আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে জোট হয়ে নির্বাচন করেছে। নির্বাচনে যে কয়টি দল অংশগ্রহণ করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম সময় পেয়েছে এনসিপি। প্রার্থীরা সময় কম পেলেও নির্বাচনি মাঠে দিনরাত কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন। মাঠপর্যায়ে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি আরও বেশি পাওয়া গেলে প্রার্থীরা আরও বেশি উপকৃত হতো। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীতে এনসিপি আরও শক্তি নিয়ে নির্বাচন করবে।

অপর এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা এখন দলকে আরও শক্তিশালী করছি। যারা চলে গেছেন, তারাও আসবেন। নতুন করে দলে আরও নেতাকর্মী যুক্ত হবে। নির্বাচনে আমরা সাধারণ মানুষের যে অংশগ্রহণ পেয়েছি, তাদের নিয়ে দল আরও এগিয়ে যাবে, শক্তি অর্জন করবে। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা সাফ জানিয়েছেন, দলকে আরও এগিয়ে নিতে যা যা করণীয় তা করা হবে। এবারের নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থীদের অনেকেই বিপাকে পড়েছিলেন তৃণমূলে যথাযথ সংগঠন না থাকায়। এখন তৃণমূলে সংগঠন দাঁড় করাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি যে সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আসন্ন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতারা ঐকমত্য হয়েছেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন বা পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্য দল কিংবা ব্যক্তির ওপর নির্ভর নয়, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে লড়বে এনসিপি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম