Logo
Logo
×
   

দ্বিতীয় সংস্করণ

হাজারীবাগে বুলেট হত্যা

নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, গ্রেফতার ২

মো. জহিরুল ইসলাম

মো. জহিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, গ্রেফতার ২

রাজধানীর হাজারীবাগে মধ্যরাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সাগর হোসেন ওরফে বুলেটকে হত্যার নেপথ্যে ছিল মাদক ও আধিপত্যের দ্বন্দ্ব। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও একটি রড উদ্ধার করেছে।

বুলেটের বড় বোন শারমিন বেগম জানান, বুলেট আগে একটি চকলেট কারখানায় কাজ করত। সম্প্রতি সে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। এ নিয়ে কয়েকবার জেলও খেটেছে। বুলেট বিয়ে করেনি। হাজারীবাগ থানার ১৫ নম্বর ভাগলপুর মসজিদের সামনে একটি আলাদা বাসায় থাকত। তার বাবার নাম মৃত শাহাদাত হোসেন।

বুলেটের ছোট ভাই শাওন জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ১৪ বছরের কিশোর মোল্লা ইমন বুলেটকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ইমন সব সময় বুলেটের সঙ্গেই থাকত। স্বজনদের দাবি, ইমন যদি ওই রাতে ডেকে না নিত, তবে বুলেট বাসা থেকে বেরই হতো না। পরিবারের ধারণা, কিশোর ইমনকে ব্যবহার করেই প্রতিপক্ষ গ্রুপ বুলেটকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

হাজারীবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুলেট এলাকার চিহ্নিত পেশাদার ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী ছিল। ডাকাতির প্রস্তুতি মামলাসহ হাজারীবাগ থানায় তার নামে ১১টি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা ও মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বেই তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, হুমায়ুন কবির, আকাশ, সাব্বির ও মোল্লা ইমনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বুধবার বুলেটের মা এ মামলা করেন। বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মো. হুমায়ুন কবির ও মোল্লা ইমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি লোহার রড ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ওসি মোশারফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমন ঘটনার সময় বুলেটের সঙ্গে ছিল এবং তারা সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা করত। গ্রেফতার দুজন আমাদের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম