ঘুস নিয়ে ১৪৬ কোটি টাকা মওকুফ, কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘুসের বিনিময়ে কর ফাঁকিতে সহযোগিতা করায় এক আয়কর কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি হলেন উপকর-কমিশনার লিংকন রায়। তিনি ঘুসের বিনিময়ে বেস্ট হোল্ডিংসের মালিকানাধীন ধামসুর ইকোনমিক জোনের ১৪৬ কোটি টাকা মওকুফ করে দেন। মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অপরদিকে অসদাচরণের দায়ে আরেক কর্মকর্তার পদোন্নতি আট বছর স্থগিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, লিংকন রায় ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত কর অঞ্চল-৫-এ (ঢাকার সার্কেল-৯০, কোম্পানিজ) কর্মরত ছিলেন। এর আগে এই সার্কেলে কর্মরত ছিলেন উপকর-কমিশনার জানে আলম। তিনি করদাতা কোম্পানি ধামসুর ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষের দুটি মামলা করেন। কিন্তু লিংকন রায় নতুন আদেশপত্র ও কর নির্ধারণ আদেশ তৈরির মাধ্যমে সরকারের ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি করেন। জানা গেছে, উপকর-কমিশনার জানে আলম ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষে ধামসুর ইকোনমিক জোনের ৭২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকাসহ মোট ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা নির্ধারণ করেন। পরে মামলা দুটি এনবিআর অডিটের জন্য নির্বাচিত করে। এ সময় জানে আলম বদলি হলে তার স্থলে উপকর-কমিশনার লিংকন রায় সার্কেলে যোগ দেন। অডিটের মাধ্যমে তিনি কর নির্ধারণী আদেশ অনুযায়ী কর মামলা দুটিতে করদাবির পরিমাণ নির্ধারণ করেন যথাক্রমে শূন্য টাকা ও এক হাজার ২৯৯ টাকা, যা অস্বাভাবিক। অর্থাৎ ওই কোম্পানির ২০২০-২১ করবর্ষের ৭২ কোটি ৯৬ লাখ ছয় হাজার ৮৬২ টাকার নির্ধারণ করা কর ধার্য করেন শূন্য টাকা। আর ২০২১-২২ করবর্ষে নির্ধারণ করা ৭৩ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ৯৯০ টাকা, কর নির্ধারণ করেন এক হাজার ২৯৯ টাকা।
ধামসুর ইকোনমিক জোন বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক বেস্ট হোল্ডিংস। পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত বেস্ট হোল্ডিংস লিমিটেড পাঁচ তারকা হোটেল লা মেরিডিয়ানের মালিকানায় রয়েছে।
অপরদিকে সোমবার আরেক প্রজ্ঞাপনে সহকারী করকমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আট বছর স্থগিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মিতু কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩ সহকারী করকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে একজন করদাতার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন রেকর্ড সংযোজন করেন। পাশাপাশি পুরোনো রেকর্ড (আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল-ট্রাইব্যুনালের আদেশ ও অন্য ডকুমেন্টস) করদাতার মনোনীত প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ অভিযোগের তদন্ত করা হয়। তদন্তে মিতুর অসদাচরণ প্রমাণিত হয়। তবে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে আট বছর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়।
