Logo
Logo
×
   

খেলা

মোহামেডান আবার ফিরছে দাবা-ব্যাডমিন্টনে

Icon

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মোহামেডান আবার ফিরছে দাবা-ব্যাডমিন্টনে

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহ্য, জনপ্রিয়তা ও ইতিহাসের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব মোহামেডান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে ধারাবাহিক সাফল্যে ক্রীড়াঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করা সাদা-কালোরা একসময় মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি এবং সমর্থকদের আবেগ-সব মিলিয়ে ছিল দেশের ক্রীড়া-সংস্কৃতির প্রতীক। কিন্তু আর্থিক সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি এবং অভিজ্ঞ সংগঠকের অভাবে ক্লাবটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একটি ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক ভিত, দক্ষ সংগঠক এবং দূরদর্শী পরিকল্পনা। এই তিনটির সমন্বয় না থাকলে কোনো ক্লাব তার অবস্থান ধরে রাখতে পারে না। মোহামেডানও এখন সেই বাস্তবতার মুখোমুখি। শুধু অর্থ বা পৃষ্ঠপোষক থাকলেই কোনো ক্লাব শক্তিশালী হয়ে ওঠে না, প্রয়োজন এমন সংগঠকের, যিনি খেলাধুলার উন্নয়নে পরিকল্পনা নিতে পারেন। অতীতে ক্লাবটির সাফল্যের পেছনে এমন অনেক সংগঠকের অবদান ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের অভাব ক্লাবটিকে প্রভাবিত করেছে।

দীর্ঘদিন পর ক্লাবের একজন অভিজ্ঞ সংগঠককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্লাবের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাকুর রহমানকে পরিচালকের পাশাপাশি ডাইরেক্টর স্পোর্টসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ক্লাবের বিভিন্ন ডিসিপ্লিন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন। তার লক্ষ্য শুধু ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য খেলাধুলায়ও ক্লাবকে সক্রিয় করা।

একসময় মোহামেডান দাবা, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইনডোর খেলায় নিয়মিত অংশ নিত। বর্তমানে আবারও ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির পাশাপাশি দাবা ও ব্যাডমিন্টনে দল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ক্লাব কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব খেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। ক্লাবের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। এ বিষয়ে ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আশা করি, নতুন কমিটিতে জেগে উঠবে মোহামেডান। ধীরে ধীরে বিভিন্ন খেলাধুলায় ফের অংশ নেবে আমাদের প্রিয় সাদা-কালো দল।’

এদিকে শুধু পুরুষদের খেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে নারী ক্রীড়ায়ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মোহামেডান। নারী ফুটবলসহ অন্যান্য নারী ইভেন্টে দল গঠনের বিষয় আলোচনায় রয়েছে। ক্লাব সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারী খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া এখন অপরিহার্য।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ফুটবলের উত্থান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। জাতীয় দলের সাফল্য এবং বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় মেয়েদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নারী ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেক ক্লাব নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। মোহামেডানও নারী ফুটবলে অংশগ্রহণের চিন্তা করছে।

ক্লাব কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ক্লাবের জন্য নারী ও পুরুষ-দুই বিভাগেই দল গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্লাবের কার্যক্রম যেমন বিস্তৃত হয়, তেমনি নতুন প্রজন্মের নারী খেলোয়াড়দের জন্যও সুযোগ সৃষ্টি হয়। ডাইরেক্টর স্পোর্টস মোস্তাকুর রহমানের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে নারী ফুটবলের পাশাপাশি ধীরে ধীরে অন্যান্য নারী ইভেন্টেও দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া।

মোহামেডানের ইনডোর খেলাধুলার ইতিহাসও সমৃদ্ধ। ঢাকার ক্লাবভিত্তিক দাবা প্রতিযোগিতায় এই ক্লাব একসময় শক্তিশালী নাম ছিল। ঢাকা প্রিমিয়ার দাবা লিগে ক্লাবটির সাফল্য শুরু হয় ১৯৭৭ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের মাধ্যমে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দাবা অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে। ’৯০ এর দশকে ক্লাবটি শক্তিশালী দল গঠন করেছিল।

১৯৯৫ ও ’৯৬ সালে ধারাবাহিক সাফল্য পায়। ২০১১ সালে আবার লিগে ফিরে এসে শিরোপা জয় করে মোহামেডান। এরপর ২০১২ ও ২০১৩ সালে টানা চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসে দলটি। সেসময় দেশের শীর্ষ দাবাড়ুরা মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ এবং গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান এই ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। দেশি-বিদেশি দাবাড়ুর সমন্বয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার দাবা লিগে সাতবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে ক্লাবটি।

দাবার পাশাপাশি ব্যাডমিন্টনেও একসময় অংশ নিত মোহামেডান। ’৮০ ও ’৯০ এর দশকে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবভিত্তিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ক্লাবটি। ফুটবল ও ক্রিকেটে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় ইনডোর খেলাগুলো ততটা গুরুত্ব পায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবও এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব থাকলে মোহামেডান আবারও এসব খেলায় ফিরে আসতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম