Logo
Logo
×
   

খেলা

চ্যাম্পিয়ন কোচ আলফাজকে সরিয়ে দিল মোহামেডান

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চ্যাম্পিয়ন কোচ আলফাজকে সরিয়ে দিল মোহামেডান

ফাইল ছবি

একটি ক্লাব, একটি ইতিহাস, আর সেই ইতিহাসে জড়িয়ে থাকা এক লড়াকু মানুষের নাম আলফাজ আহমেদ। মাত্র এক মৌসুম আগে যার হাত ধরে দীর্ঘ ২৩ বছরের খরা কাটিয়ে লিগ শিরোপা জিতেছিল ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, সেই মানুষটিকেই চলতি মৌসুমের মাঝপথে বিদায় জানাল ক্লাবটি। সাফল্যের উচ্ছ্বাস যেন খুব দ্রুতই হারিয়ে গেল বাস্তবতার কঠিন দেওয়ালে।

সবকিছুর সূচনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে ২-১ গোলের হারের পর। ম্যাচটিতে শুধু হার ছিল না, ছিল সমালোচনার বিস্ফোরণ। চলতি লিগে ১২ ম্যাচে মাত্র দুটি জয়-এই পরিসংখ্যানই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল সিদ্ধান্তের ভিত্তি। রোববার ক্লাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়েই এ পদক্ষেপ। তবে মাঠের বাইরের গল্প যেন আরও কষ্টের। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি শোনা গিয়েছিল, তার বাস্তবায়ন হয়নি খুব একটা। ভালো মানের দল গঠন তো দূরের কথা, অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাকে পর্যন্ত ধরে রাখা যায়নি। খেলোয়াড়দের বেতন বকেয়া ছিল দীর্ঘদিন, কোচিং স্টাফ নিজেরা পারিশ্রমিক না নিয়েই চালিয়ে গেছেন অনুশীলন। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে দলের ফল কতটা প্রত্যাশিত হতে পারত-সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিদায়ের দিনটিও ছিল নির্মম। বিকেলে দলকে অনুশীলন করিয়েছেন আলফাজ, আর সন্ধ্যা নামতেই শুনেছেন বরখাস্তের খবর। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আজ বিকালেও অনুশীলন করিয়েছি। ক্লাব এখন আমার প্রয়োজন মনে করেনি, তাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোচদের জীবন এমনই, এটা মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়।’ তার কণ্ঠে ছিল না কোনো ক্ষোভ, বরং ছিল পেশাদার জীবনের নীরব মেনে নেওয়া। তিন মৌসুমে একটি লিগ, একটি ফেডারেশন কাপ এবং এক মৌসুমে তিনটি রানার্সআপ ট্রফি-এই অর্জনই তার অবদানের সাক্ষী। অথচ বিদায়ের সময়ও রয়ে গেছে সাত মাসের বকেয়া বেতন, যার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাফল্যের আলোয় যে মানুষটিকে একসময় তুলে ধরা হয়েছিল, বিদায়ের মুহূর্তে তাকেই যেন একা দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। ক্লাবের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে। ডিরেক্টর ইন-চার্জ লোকমান হোসেন ভুইয়া বলেন, ‘এ বিষয়গুলো পরিচালক ক্রীড়ার (মোস্তাক)। তার (আলফাজ) অবদান ও সাফল্য অবশ্যই রয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক বিবেচনায় ক্লাবের উন্নয়ন ও প্রয়োজনের স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তার বক্তব্যে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুর স্পষ্ট, যা বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে।

একই সঙ্গে কোচের পাশাপাশি টিম লিডার পদেও পরিবর্তন এসেছে। আমিরুল ইসলাম বাবুকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের প্রত্যাশাকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসাবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবতা ভিন্নকথা বলে। দল গঠন কিংবা ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে যখন সমর্থকরা প্রশ্ন তোলেন, তখন খুব কমই দেখা যায় কর্তাদের আত্মসমালোচনা। বাংলাদেশের ফুটবল যখন নিজের হারানো আলো খুঁজছে, তখন আলফাজ আহমেদের বিদায় যেন সেই অন্ধকারকেই আরও গাঢ় করে। তিনি ছিলেন নীরব যোদ্ধা-খেলোয়াড় হিসাবে যেমন, কোচ হিসাবেও তেমনই। এ বিদায় হয়তো একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, কিন্তু তার লড়াই থেমে যাওয়ার গল্প নয়। ফুটবল মাঠ তাকে আবার ডাকবেই-অন্য কোনো ডাগআউটে, নতুন কোনো স্বপ্ন নিয়ে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম