ফিফার নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আবাহনী
হতে পারে তিন কোটি টাকা জরিমানা
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যে ক্লাব একদিন বাংলাদেশের ফুটবলের আকাশ ছিল, আজ দাঁড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম সারিতে উচ্চারিত হয় ঢাকা আবাহনীর নাম। সেই আবাহনী এখন গভীর সংকটে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আকাশি নীল-হলুদ শিবির। প্রায় তিন কোটি টাকা জরিমানার গ্যাঁড়াকলে ক্লাবটি দাঁড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে জুন থেকে কার্যকর হতে পারে ফিফার নিষেধাজ্ঞা। তখন আবাহনী নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে না।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়, এই সংকট মাঠের ব্যর্থতা থেকে তৈরি হয়নি। কর্মকর্তাদের অদক্ষতা এর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে তিন বিদেশি খেলোয়াড় কেন্ডি, আলখুল্লি ও রিচবন্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছিল আবাহনী। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেই খেলোয়াড়রা বাংলাদেশেই আসেননি, মাঠেও নামেননি। কেন্ডির সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ৯৬ হাজার ডলারে। আলখুল্লি ৬৪ হাজার ডলার এবং রিচবন্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল এক লাখ ডলারের। এরপরও তৈরি হয় চুক্তি নিয়ে জটিলতা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের পাওনা ও চুক্তির দায় থেকে ক্লাব মুক্ত থাকতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, সেসময়ের টিম ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতা এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিশাল আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম সফল ক্লাবটি।
যে আবাহনী একদিন এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেছে, যে ক্লাব দেশের ফুটবলকে দিয়েছে অসংখ্য তারকা, সেই ক্লাবের ভাগ্য আজ ঝুলছে তিন কোটি টাকার অঙ্কে। আবাহনীর দাবি, বাফুফের কাছে ক্লাবটির কয়েক কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সেই অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ফলে আর্থিক সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ক্লাবসংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, পাওনা অর্থ সময়মতো পেলে অন্তত নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কিছুটা কমানো যেত।
সমর্থকদের সবচেয়ে বড় ভয়, যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে শুধু আবাহনীর জন্যই নয়, বাংলাদেশের ফুটবল ঐতিহ্যের জন্যও সেটি হবে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। কারণ আবাহনী হারিয়ে গেলে হারাবে শুধু একটি দল নয়, হারাবে বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসের এক বিশাল অংশ। নীল-হলুদের গ্যালারিতে যে আবেগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে আছে, সেই আবেগকে কখনো টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। মাঠে গৌরবময় ইতিহাস থাকলেও কাগজে-কলমে ভুলের মূল্য দিতে হচ্ছে আবাহনীকে। নীল-হলুদের গল্প এভাবে শেষ হতে পারে না, বিশ্বাস ক্লাবটির অগণিত সমর্থকের।

