Logo
Logo
×
   

খেলা

ছোট জয়ের নেশায় বড় ক্ষতি!

জ্যোতির্ময় মন্ডল

জ্যোতির্ময় মন্ডল

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট জয়ের নেশায় বড় ক্ষতি!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায়ে শুরু হয় তীব্র উদ্বেগ। জিম্বাবুয়ের মাঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে এমন হার মেনে নিতে পারেনি বোর্ড। এরপরই ওয়ানডে ও টি ২০ সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ শক্তির দল মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অদূরদর্শী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চড়া মূল্য দিতে বাধ্য করেছে বাংলাদেশকে।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলাকালে দেশের অধিকাংশ ক্রীড়াপ্রেমীর মনোযোগ ছিল ফুটবল বিশ্বকাপে। এমন সময় টেস্টে হারের পর ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে পুরোপুরি ফিট না থাকা কয়েকজন ক্রিকেটারকেও দলে বিবেচনা করা হয়। শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও লিটন দাসকে জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরে আসেন। এরপর সফরজুড়ে একে একে ইনজুরিতে পড়েন নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ দল। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে খেলতে পারবেন না গতি তারকা নাহিদ রানা। তিনি ছিলেন সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ। এমনকি তার গতি ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অথচ সেই নাহিদই থাকছেন না সিরিজে। প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না লিটন দাস ও শরীফুল ইসলামও। দ্বিতীয় টেস্টেও তারা খেলবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল খেলানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সামনে থাকা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে।

বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দলগুলো সাধারণত অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কিংবা বড় সিরিজের আগে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রামে রাখে। এতে মূল সিরিজের আগে তাদের ফিটনেস ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়। বাংলাদেশও টেস্টের আগে আংশিকভাবে সেই পরিকল্পনায় ছিল। টেস্টে হারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিসিবির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, টেস্টে হারের পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে বোর্ড মরিয়া হয়ে ওঠে। নির্বাচকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, যেন শক্তিশালী দলই রাখা হয় এবং কোনোভাবেই বাংলাদেশ সিরিজ না হারে। চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই ফিট বিবেচিত ক্রিকেটারদের জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ক্রিকেটারদের ইনজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা দুর্ঘটনা। ইনজুরি যে কোনো সময়ই হতে পারে। আর আমাদের সব সময়ই গুরুত্ব পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোডের কথা মাথায় রেখেই দল সাজানো হয়েছে।’ ওয়ানডে সিরিজে হারের পর টি ২০ সিরিজ জিতলেও সফর শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের ইনজুরি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পূর্ণ শক্তির দল না পাওয়াটা বাংলাদেশের প্রস্তুতিকে নিঃসন্দেহে কঠিন করে তুলবে।

বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে, জিম্বাবুয়ের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও জয়ের জন্য অতিরিক্ত মরিয়া হওয়ার ফলেই কি এই ইনজুরির মিছিল? বিসিবি কি আরও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে পারত? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধান নির্বাচক ও বিসিবির বর্তমান পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘ইনজুরি হয়েছে বলেই এখন কথা হচ্ছে। তা না হলে এটা নিয়ে কথা হতো না। চোট তো বলে-কয়ে আসে না। আর এগুলো টিম ম্যানেজমেন্টের কাজের অংশ। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’ কিছুদিন আগেও যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আশা ছিল, সেখানে এখন আরও খর্বশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম