কিঞ্চিৎ অপূর্ণতা কিংবদন্তির!
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জীবনের ক্রিজে আর মাত্র ১১ দিন কাটিয়ে দিলে আজ ৯০তম জন্মদিনের কেক কাটতেন স্যার গ্যারি সোবার্স। এক জুলাইয়ে তিনি এসেছিলেন পৃথিবীতে। আরেক জুলাইয়ে চলে গেলেন।
দুই হাতেই ছয় আঙুল নিয়ে জন্ম হয়েছিল তার। সোবার্সের সেটি পছন্দ হয়নি। কৈশোরে এক হাতের বাড়তি আঙুল নিজেই ফেলে দিয়েছিলেন। ১১ আঙুল নিয়ে নিজের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করা এই কিংবদন্তি পরে ধারালো ছুরি দিয়ে আরেকটি অতিরিক্ত আঙুলও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। তখন তার বয়স ১৪ বছর।
তার আগেই শুরু করে দিয়েছিলেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। প্রথম ব্যাটার হিসাবে ছয় বলে ছয় ছক্কা হাঁকানো ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার ১১ দিনের জন্য যেমন ৯০ পূর্ণ করতে পারেননি জীবনের ইনিংসে, তেমনি শততম টেস্ট থেকে সাত ম্যাচ দূরে থেকে ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে রেখে যান অপূর্ণতার ছাপ। ৮,০৩২ রান, ২৩৫ উইকেট এবং ১০৯ ক্যাচ নিয়ে তিনি ক্ষান্ত দেন।
একুশের এক টগবগে যুবক ১৯৫৮ সালে কিংসটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের যে অতিমানবীয় ইনিংস খেলেছিলেন, টেস্ট রেকর্ড হিসাবে সেটি টিকেছিল ৩৬ বছর। পরে যে রেকর্ডের পরিসমাপ্তি ঘটে ব্রায়ান লারার হাতে। বাইশ গজে তার উইলো বোলারদের জন্য হয়ে উঠত চাবুক। আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে পছন্দ করতেন।
ব্যক্তিজীবনে ঠিক উলটো। ফ্ল্যামবয়েন্ট ক্রিকেটার বলতে যা বোঝায়, সোবার্স ছিলেন ঠিক তাই। ১৯৬৬-৬৭ সালের ঘটনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এসেছে ভারতে। সোবার্সের অটোগ্রাফ নিতে গিয়ে তার প্রেমে পড়ে যান সেসময়ের বলিউড অভিনেত্রী অঞ্জু মাহেন্দ্রু। সেই সম্পর্ক অবশ্য স্থায়ী হয়নি।
বলা হয়, গ্যারি সোবার্স যে পৃথিবীতে জন্মেছিলেন, সেটি তার পৃথিবী ছিল না। তাই তিনি নিজেই একটা আলাদা পৃথিবী গড়ে তুলেছিলেন নিজের জন্য। ডিওন ন্যাশ, যাকে এক ওভারে ছয় ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সোবার্স, তার কাছে ক্যারিবীয় কিংবদন্তির ব্যাটিং ছিল কবিতার মতো। ব্রায়ান লারা, যিনি সোবার্সের রেকর্ড ভেঙেছিলেন, তার কাছে ‘ফাদার ফিগার’ সোবার্সই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের শুরু ও শেষ। আর কী বলার থাকতে পারে স্যার গ্যারফিল্ড সেন্ট অবরান সোবার্স সম্পর্কে।

