Logo
Logo
×
   

সুস্থ থাকুন

মেনোপজ কি অনিবার্য ভোগান্তি

Icon

ডা. মো. আশিকুর রহমান

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেনোপজ কি অনিবার্য ভোগান্তি

নারীর জীবনে মেনোপজ একটি স্বাভাবিক ও অনিবার্য শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে একে প্রাকৃতিক মেনোপজ বলা হয়। আবার কোনো কারণে জরায়ু অথবা ডিম্বাশয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হলে হরমোনের ঘাটতি হঠাৎ দেখা দেয়, যাকে পোস্ট-সার্জিক্যাল মেনোপজ বলা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

* মেনোপজ কেন হয়

মেনোপজের মূল কারণ হলো, শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া। এ হরমোনগুলো নারীর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। হরমোনের এ স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

* সাধারণ উপসর্গ

মেনোপজের সময় নারীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, তার মধ্যে রয়েছে

► হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।

► ঘুমের ব্যাঘাত ও সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়া।

► মনের অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ থাকা।

► দাম্পত্য জীবনে আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্য কমে যাওয়া।

► গোপন অঙ্গে শুষ্কতা ও দৈনন্দিন কাজে অস্বস্তি।

► হাড়ের শক্তি কমে যাওয়া (হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস)।

► ওজন বেড়ে যাওয়া ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

পোস্ট-সার্জিক্যাল মেনোপজে এসব উপসর্গ অনেক সময় আরও বেশি অনুভূত হয়, কারণ হরমোন হঠাৎ করে কমে যায়।

* রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা

মেনোপজ সাধারণত উপসর্গ ও বয়স বিবেচনায় নির্ণয় করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন, যেমন-

► হরমোন পরীক্ষা (FSH, Estradiol)

► থাইরয়েড পরীক্ষা।

► রক্তচাপ, রক্তে চর্বি ও শর্করার মাত্রা।

► হাড়ের ঘনত্ব নির্ণয়ের পরীক্ষা।

এ পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

* চিকিৎসা ও হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)

মেনোপজ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হলো, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি। এতে শরীরে কমে যাওয়া হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করা হয়।

সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে HRT-এর মাধ্যমে

► গরম লাগা ও ঘুমের সমস্যা কমে।

► মানসিক স্থিরতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ে।

► দাম্পত্য জীবনের অস্বস্তি হ্রাস পায়।

► হাড়ক্ষয় রোধ হয়।

► সামগ্রিক জীবনমান উন্নত হয়।

যেসব নারীর জরায়ু অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এ চিকিৎসা আরও উপকারী হতে পারে।

লেখক : আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন), ঢাকা মেডিকিল কলেজ হাসপাতাল।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .