হজযাত্রীদের জন্য পরামর্শ
ডা. মারুফ রায়হান খান
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
হজযাত্রী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
▶ হজের সময় প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ কিমি হাঁটতে হতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করা প্রয়োজন।
▶ ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করুন। ওষুধপত্রের ডোজগুলো পুনরায় ঠিক করে নেওয়া শ্রেয়।
▶ আপনার নিয়মিত খাওয়ার ওষুধগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে (অন্তত ৪৫ দিনের) সঙ্গে রাখুন।
▶ সাধারণ সমস্যার জন্য প্যারাসিটামল (জ্বর বা ব্যথার জন্য), অ্যান্টাসিড বা ওমিপ্রাজল (এসিডিটির জন্য), ওরাল স্যালাইন (ডিহাইড্রেশন রোধে), ব্যান্ডেজ এবং অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম এসব ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
▶ মরুভূমির শুষ্ক আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত পানি হারিয়ে ফেলে। তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
▶ সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ছাতা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
▶ নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস বজায় রাখুন।
▶ ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়া করবেন না।
▶ নিজের সঙ্গে সবসময় আপনার পরিচয়পত্র এবং হোটেলের কার্ড রাখুন। হোটেলের নামটি মুখস্থ রাখার চেষ্টা করুন।
▶ ভ্রমণের ক্লান্তি এবং ইবাদতের ব্যস্ততায় অনেক সময় নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার কথা মনে থাকে না। তাই ফোনে অ্যালার্ম সেট করে রাখুন অথবা ওষুধের প্যাকেটের গায়ে খাওয়ার সময় অনুযায়ী মার্কিং করে নিন, যাতে কোনো ডোজ মিস না হয়।
▶ রাস্তার খোলা খাবার বা বাসি খাবার পরিহার করুন। কৌতূহলের বশে অপরিচিত খাবার পরিহার করাই শ্রেয়। সবসময় ফ্রেশ এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।
▶ ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল (যেমন : কমলা, লেবু) খান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
▶ অতিরিক্ত চা বা কফি এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য করে দিতে পারে।
▶ দীর্ঘক্ষণ হাঁটার ফলে পায়ে ব্যথা বা পেশিতে টান লাগলে হালকা গরম পানির স্যাঁক নিতে পারেন।
▶ ইবাদতের ফাঁকে শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। একটানা অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না।
▶ দীর্ঘপথ হাঁটার কারণে উরুর সন্ধিস্থলে ঘর্ষণজনিত ক্ষত হতে পারে। সুরক্ষার জন্য ভ্যাসলিন বা ক্ষেত্রবিশেষে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে।
▶ ভারী পোশাক না পরে সুতির ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরার চেষ্টা করুন।
▶ প্রচণ্ড গরম এবং ভিড়ের মধ্যে মেজাজ হারাবেন না। মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা শারীরিক সুস্থতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
▶ অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক ও হিট এক্সহউশন প্রতিরোধ করার বিষয়ে কিছু প্রাথমিক ধারণা রাখা প্রয়োজন। যদি প্রচণ্ড মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার পর হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, তবে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন। শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন এবং প্রচুর পরিমাণে ওরাল স্যালাইন পান করুন। অবস্থা গুরুতর হলে দেরি না করে নিকটস্থ মেডিকেল সেন্টারে যোগাযোগ করুন।
▶ নতুন জুতা পরে সরাসরি হজে যাবেন না। অন্তত কয়েকদিন আগে থেকে সেই জুতা পরে হাঁটার অভ্যাস করা প্রয়োজন যাতে পা মানিয়ে নিতে পারে। সবসময় নরম ও উন্নত মানের স্যান্ডেল বা স্নিকার্স ব্যবহার করুন।
▶ বিশেষ করে ডায়াবেটিসের রোগীরা প্রতিদিন রাতে ভালো করে পায়ের পাতা ও আঙুলের ফাঁক পরীক্ষা করুন যেন কোনো ক্ষত বা ফোসকা না থাকে। তাদের ব্যথার অনুভূতি কমে যায় বলে অনেক সময় বুঝতে পারেন না ইনজুরি হলেও।
লেখক : কার্ডিওলজিস্ট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ অ্যান্ড হসপিটাল, ঢাকা।
