আর্থ্রাইটিস রোগীর খাবার
আখতারুন নাহার আলো
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্থ্রাইটিস হাড়জনিত রোগের মধ্যে অন্যতম। এটি হাড়ের দীর্ঘস্থায়ী বেদনাদায়ক রোগ। অনেক সময় দেখা যায় আর্থ্রাইটিসের কারণে মানুষের হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এটি দেহের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায়, অপুষ্টি এমনকি অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবারের ঘাটতি হলে আর্থ্রইটিসের সূচনা হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও সেলেনিয়াম। দেখা যায়, এ ধরনের রোগীরা প্রতিদিন ২ চা চামচ কডলিভার তেল খেলে উপকার পাবেন। আর্থাইটিস রোগী সমুদ্রের মাছ খেলে উপকার পাবেন। এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এছাড়া প্রদাহ কমানোর জন্য প্রতিদিন ২-৩ টুকরা (১২০ গ্রাম) আনারস খেতে পারলে ভালো হয়। খাবারের মধ্যে বাদ দিতে হবে ‘নাইট শেডস্ ভেজিটেবল’। যেমন-আলু, টমেটো, বেগুন, গোলমরিচ। এ সবজিগুলোর ফুল রাতে ফোটে এবং রাতেই সবজির আকার বৃদ্ধি পায়। এজন্যই এদের নাইট শেডস্ সবজি বলা হয়। সেলারি সিদ্ধ পানি খেলেও আর্থ্রাইটিসে উপকার পাওয়া যাবে।
ভিটামিন এ পাওয়া যাবে-কলিজা, ডিমের কুসুম, কডলিভার তেল, মাখন, গাজর, হলুদ, লাল রঙের ফল ও সবজিতে। ভিটামিন সি-সব ধরনের লেবু, কমলা, আমলকী, পেয়ারা, কাঁচামরিচ, ধনিয়াপাতা ও শাকসবজিতে পাওয়া যায়।
ভিটামিন-ই-উদ্ভিজ তেল, মার্জারিন, দুধের সর, বাদাম, আখরোট, গম ইত্যাদিতে থাকে।
সেলেনিয়াম-সমুদ্রের খাবার, কলিজা, ভুসিযুক্ত আটা, টুনা মাছ, লাল চাল, পেঁয়াজ, ব্রকলি ও রসুন।
সর্বোপরি মেনে চলতে হবে-
▶ গুরুপাক খাবার ও উপবাস দুটিই ত্যাগ করতে হবে।
▶ দেহের ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে।
▶ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে।
▶ চর্বিজাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।
▶ তামাকজাতীয় দ্রব্য বাদ দিতে হবে।
▶ শরীরকে যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখার চেষ্টা করতে হবে।
▶ সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে।
▶ প্রতিদিন ২ চা চামচ অলিভ অয়েল খেলে ব্যথা কমবে।
লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা।
