জন কেরির মন্তব্য
ইসরাইলের ফাঁদে ট্রাম্প
ইরানে হামলায় রাজি হননি বুশ, ওবামা ও বাইডেন
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে সামরিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করেছিল ইসরাইল। তবে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট বুশ, ওবামা ও বাইডেন এ প্রস্তাবে রাজি না হলেও, শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের ফাঁদে পা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু।
শুক্রবার দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেরি বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি নিজেও এমন বেশ কয়েকটি আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি এই প্রস্তাব দেন। তার মতে, তিনি আমাদের দিয়ে ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। কেরি জানান, এই প্রস্তাব বারাক ওবামার কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে ওবামা, জো বাইডেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ কেউই এতে সম্মত হননি। কেরি আরও বলেন, একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি এতে রাজি হয়েছেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, নেতানিয়াহু একটি চার দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন, যেখানে হামলার মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্ব দুর্বল করা, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের কথা বলা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এতে তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয় তেহরান। পরে পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব, মিসরের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ৪০ দিনের সংঘাতের পর এই সমঝোতা আসে। চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলে শনিবারও। এ দিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা। তবে এবার আর কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে নয়, মার্কিনি ও ইরানিরা সরাসরি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, তাদের সূত্র জানিয়েছেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল দুই দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে কথা বলবে। কিন্তু তারা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। তবে যেখানে আলোচনা হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছেন। এ আলোচনায় মার্কিনিদের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর টানা ৪০ দিন তাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামলেও, এ যুদ্ধবিরতি প্রথম থেকেই বেশ ভঙ্গুর। আলোচনার আগেও ট্রাম্প হুমকি দেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তাহলে ইরানে আবারও হামলা শুরু হবে। এর জন্য জাহাজকে অস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তিন পক্ষ মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নেতৃত্বে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় সেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।
