তেল শোধনাগার পুনরায় চালুর উদ্যোগ ইরানের
২ মাসে তেল শোধন ক্ষমতা ৮০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে ইরান। দেশটির জাতীয় ইরানি তেল পণ্য বিতরণ কোম্পানির প্রধান মোহাম্মদ সাদেগ আজিমিফার জানিয়েছেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যে কিছু অংশ পুনরায় চালু করা হবে এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এপি।
মোহাম্মদ সাদেগ বলেছেন, হামলার পরদিনই ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সব স্থাপনায় বিশেষজ্ঞ দল ও ঠিকাদারদের মোতায়েন করা হয়েছে। তেহরানের শাহর-ই-রেই তেল সংরক্ষণাগারে প্রায় দুই হাজার কর্মী পুনরুদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি জানান, অধিকাংশ স্থাপনাতেই এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলায় শোধনাগার, পরিবহণ লাইন এবং বিমান জ্বালানি সংরক্ষণাগারসহ তেল খাতের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও লাবান দ্বীপের একটি শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটে। যার পুনরুদ্ধারে জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। তিনি বলেন, তেল খাতের কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। ইরান সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার আলোচনা শুরুর আগে প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর থেকে তিনটি বিশালাকার সুপার ট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য (শিপিং ডেটা) অনুযায়ী, শনিবার তেল বোঝাই এ জাহাজগুলো হরমুজ দিয়ে বের হয়ে গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেরিফস’ এবং চীনের পতাকাবাহী ‘কসপিয়ার্ল লেক’ ও ‘হি রং হাই’ নামের তিনটি জাহাজ ইরানের লারাক দ্বীপসংলগ্ন বিকল্প জলপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।
